বিজ্ঞাপন

গুম প্রতিরোধ আইন মাইলফলক, বিচারের দ্বার খুলল : চিফ প্রসিকিউটর

গুম প্রতিরোধ আইন মাইলফলক, বিচারের দ্বার খুলল : চিফ প্রসিকিউটর

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন এ আইনের মাধ্যমে গুমের শিকার ও তাদের স্বজনদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

গুম আইনকে স্বাগত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের দেশে আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ছিল। কিন্তু গত সরকারের সময় বাস্তব প্রয়োগ আমরা দেখিনি। কারণ তখন আইনটিতে মানবাধিকার কমিশনকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন কার্যত তারা ফাংশনিং ছিলেন না। ফলে গুম আইনে আমাদের কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া দেখিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এ আইন সংশোধিত আকারে পাস করবে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করা হয়েছে। আইনটিতে বলা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গোপন রাখে, কিংবা আইনের সুবিধা লাভে বঞ্চিত করে, তাহলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ এবং গুম বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে কোথাও আটক রেখে আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটি গুম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া গুম ব্যাপক মাত্রায় বা সিস্টেমেটিক হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর বিচার হবে আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এরইমধ্যে আমাদের ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান রয়েছে, তা এখানে হবে। যদি কোনো গুমের বিচার বিচারিক আদালতে চলমান থাকা অবস্থায় প্রতীয়মান হয় যে, বিচারটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া বাঞ্ছনীয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালত সেটি ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারবে। এছাড়া অন্য কোনো আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলমান থাকলে তা ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসার এখতিয়ার রয়েছে চিফ প্রসিকিউটর বা তদন্ত সংস্থার।

গুমের এ আইনে বিচারের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই আইনটি একটি কমপ্লিট ল। যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের বিচারের পরিধিও বড় হয়েছে। সারা বাংলাদেশে গুমের বিচারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে কোনো ধরনের কনফ্লিক্ট হওয়ার সুযোগ নেই। অত্যন্ত পরিষ্কারভাবেই আইনটি করা হয়েছে। এ আইনের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বিচারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেসব পর্যায়ক্রমে আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখব। এতদিন আমাদের সামনে কোনো গুম আইন ছিল না, এখন যেহেতু আইনটি হয়ে গেছে, সেহেতু ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিকের মধ্যে পড়বে না, সেগুলো স্বতন্ত্র গুম অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে চলে যাবে। এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবো।

এমআরআর/জেডএস