চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকায় ‘অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ চালুর উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নোটিশদাতা অ্যাডভোকেট কাজী নুসরাত জাহানের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, মেহেদীবাগ এলাকার একটি বহুতল ভবনে ‘অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা ও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির উদ্বোধন ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে নোটিশদাতা অবগত হয়েছেন।
নোটিশে গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট ভবনটি হাসপাতাল হিসেবে নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ভবনটি মূলত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে অনুমোদিত ছিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অসংগতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
নোটিশে সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদিত নকশায় ২০টি পিলারের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ১৭টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে অনুমোদিত নকশায় একটি লিফটের কথা থাকলেও ভবনটিতে তিনটি লিফট স্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এসব বিষয় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে নোটিশদাতা দাবি করেন।
নোটিশে বলা হয়, একটি হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী, চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, পার্কিং ও যান চলাচলসহ বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত না করে হাসপাতাল চালু করা হলে দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন, নকশা, ব্যবহার অনুমতি, হাসপাতালের লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির উদ্বোধন স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম, রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার ও রোগ নির্ণয় কার্যক্রম শুরু করতে না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশে অনুরোধ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণ যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ২০টির বিপরীতে ১৭টি পিলার এবং একটি লিফটের বিপরীতে তিনটি লিফট স্থাপনের বিষয়টি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তে কোনো অনিয়ম, অনুমোদন বহির্ভূত নির্মাণ, ব্যবহার বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি পাওয়া গেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮, ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নোটিশদাতাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
অন্যথায় মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট পিটিশনসহ প্রয়োজনীয় সব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
আইনজীবী মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ছাড়পত্র এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কার্যক্রম শুরু করা হলে তা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো দ্রুত যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরএমএন/এসএএস
