কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ তিন সেনা কর্মকর্তার জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন এ মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মোহাম্মদ অলি মিয়া, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ছিলেন।
শুনানিতে জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য গত ২৫ আগস্ট দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাদের হাজিরের জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে গ্রেপ্তার চার আসামিই হাজির হয়েছেন। তাই পলাতকদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হোক। এছাড়া অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সময় চাই।
পরে সেনা কর্মকর্তা মিফতাহ, আনোয়ার ও মাহবুবের জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী তবারক হোসেন। তিনি বিভিন্ন গ্রাউন্ড দেখিয়ে তিনজনেরই জামিন প্রার্থনা করেন।
শুনানি শেষে জামিন নিয়ে আদেশের দিন ধার্যের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ২৫ আগস্ট বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
এমআরআর/এসএম
