বিজ্ঞাপন

বিয়ের ৪ মাসের মাথায় স্ত্রীর আত্মহত্যা, স্বামী রিমান্ডে

বিয়ের ৪ মাসের মাথায় স্ত্রীর আত্মহত্যা, স্বামী রিমান্ডে

ঢাকার শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকায় আফরা খান (১৬) নামে এক নববধূর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী রাহাত হোসেনকে (২২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিকে রাহাতকে আদালতে হাজির করা হবে জেনে আফরার স্বজনরা সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন। তারা রাহাতের শাস্তির দাবি জানান।

আফরার মৃত্যুর ঘটনায় গত ২০ আগস্ট শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা লাকী আক্তার। অন্য তিন আসামি হলেন— রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন।

মামলা দায়েরের পর ২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লটের নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাহাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন মঙ্গলবার।এদিন শুনানিকালে রাহাতকে আদালতে হাজির করা হয়।

বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন সোহেল আসামির রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ভুক্তভোগী আফরার বয়স ১৮ বছর না হলেও তাকে ফুসলিয়ে এবং পরিবারকে ভয় দেখিয়ে বিয়ে করেন আসামি। তারপর ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এটা কোনো আত্মহত্যা নয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেনো তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কে জড়িত— সে তথ্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আসামির পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ও আসামি পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাকে যে হত্যা করা হয়নি, তা এজাহারেই বোঝা যায়। আবার হত্যা করা হয়েছে কিনা, সেটা তারাই নিশ্চিত নন। আমরাও বিচার চাই। আসামির রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।

এদিকে আফরার মা লাকী আক্তার রিমান্ড শুনানিকালে আদালত উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আমার মেয়ের সঙ্গে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা বিয়ে দিতে রাজি ছিলাম না। ও ওর মাকে নিয়ে অন্তত ১০ বার আমার বাসায় গেছে বিয়ের প্রস্তাব দিতে। এক প্রকার বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়েছি। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রাহাত ও আফরা। বিয়ের পর থেকেই আসামিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আফরাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকে মারধর করতেন। আসামিরা তাকে ভয়ভীতি, হুমকি, মানসিক নির্যাতনসহ অপমান করে হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতেন। গত ২০ আগস্ট সোনিয়া আক্তার ভিকটিমের মাকে ফোন করে জানান, আফরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছেন। তাকে সূত্রাপুর একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য লিটন ব্যাপারী ও সাইফ নিয়ে যান। আফরার মা হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। সেখান থেকে আফরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২০ আগস্ট তিনি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ করেন, আসামিরা তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

এনআর/এসএএস