রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় কাতার প্রবাসী প্রেমিক সিফাত উল্লাহকে ডেকে নিয়ে খুনের অভিযোগে করা মামলায় প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার নেহার আরেক প্রেমিক সাজিদুল ইসলাম সাজিদসহ দুই জনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ তিন আসামিকে আদালত হাজির করেন। এদের মধ্যে নেহা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। সাজিদ এবং অপর আসামি আল আমিন হোসেন জয়কে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামি নেহার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি নিয়ে দুই আসামির তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। সাজিদের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। জয়ের পক্ষে কোনো আবেদন ছিল না।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়া এলাকা থেকে জয়কে ও কায়েতপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আর ঘটনার পর নেহাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
সিফাতকে খুনের ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন সাত জনকে আসামি করে সোমবার সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। নেহা, সাজিদ, জয় ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- আরাফাত, তুহিন, অনিক ও রাব্বী।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে আসে। সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সিফাত জানতে পারে, সাজিদের সঙ্গেও নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি নিয়ে সিফাত ও নেহার মধ্যে মনোমালিন্য হয়। নেহা সাজিদকে ডাকে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে সিফাত মোটর সাইকেলে করে মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকায় পৌঁছানো মাত্র আসামিরা তার উপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে আহত করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনআর/বিআরইউ
