বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে শ্রমিকদল নেতা

‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলায় হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ

‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলায় হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন কাউসার আহমেদ নামে এক সাক্ষী। ওই হামলায় নিজের বাম পায়ে গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়ে যান বলেও তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তিনি।

কাউসারের বয়স ৫১ বছর। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায়। বাড়ি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নাম 'গ' শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছে।

জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে আধাঘণ্টার মধ্যে চাষাঢ়া মোড়ে পৌঁছাই। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেই। আন্দোলনরত অবস্থায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে চাষাঢ়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান ২০-২৫ জন। এর মধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু, সাইদ ছিলেন। তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল। তাদের ছোড়া একটি গুলি আমার বাম পায়ে লাগে। এতে আমি রাস্তায় পড়ে যাই।

তিনি বলেন, কে বা কারা আমাকে খানপুর হাসপাতালে নিয়েছে বলতে পারবো না। তবে চিকিৎসা না করাতে চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন শামীম ওসমান। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে আমাকে ঢাকা মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দেখে বলেন যে, এই গুলি বের করা সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে ডাক্তাররা আমাকে ৮ আগস্ট অপারেশন করে গুলি বের করেন।

শ্রমিকদল নেতা জানান, ৫ আগস্ট আমি ছাড়াও আরও অনেকে গুলিতে আহত হয়েছিলেন। সুজন নামে একটি ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। তার বাড়ি বন্দর এলাকায়। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের গডফাদার। তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষকে আহত ও নিহত করেছেন। এ সময় নিজেকে ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আহত করার জন্য জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সাক্ষী।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল। 

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান।

এ মামলায় সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন- শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

এমআরআর/এসএম