অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই মামলায় ইন্টারফেয়ার করবো না।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।
তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দুটি রিট পিটিশন করা হয়েছিল। এনবিআর যে অতিরিক্ত ট্যাক্স দাবি করেছে, সেটাকে অবৈধ ডিক্লেয়ার করার জন্য যে দুটি রিট করেছিল, এই দুটি রিট নামঞ্জুর হয়েছে গত ১০ তারিখে। তার জন্য আমরা একটা স্টে চেয়েছিলাম, চেম্বার জজের কাছে সিএমপি ফাইল করে। চেম্বার জজ বললেন, যেহেতু হাইকোর্ট এখনো কোনো জাজমেন্ট দেয়নি এবং আমরা পাইনি, সুতরাং এই ব্যাপারে আমরা কোনো ইন্টারফেয়ার করব না। সুতরাং জাজমেন্ট এলে তারপরে তার উপরে জাজমেন্ট পড়ে দেখে তারপরে আমরা ইন্টারফেয়ার করব।
‘সেখানে এনবিআর এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস উপস্থিত ছিলেন। তখন কোর্টই বলছেন, আপনারা তো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না? তারা কোর্টকে বলছেন না, আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। তারা অ্যাসিওর করেছেন। তারপরও আবার আমি ব্যক্তিগতভাবে বললাম, মাই লর্ড, তবুও একটা দেন। তখন কোর্ট বললেন, কোর্টের ভার্বাল অর্ডার ইজ অলসো অর্ডার।’
‘সুতরাং, যেখানে চেম্বার জজই ইন্টারফেয়ার করেননি, সেখানে তো কোনো ডিপার্টমেন্টের ইন্টারফেয়ার করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং আজকে হচ্ছে এই হচ্ছে অ্যাপিলেট ডিভিশনের আমাদের জিনিস। সুতরাং আমরা আপিল ফাইল না করা পর্যন্ত জাজমেন্ট পেয়ে, এটা এই অবস্থায় থাকবে—কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ রায় দেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই দুটি রিট খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।
তখন প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে।
এমএইচডি/জেডএস
