বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির দুই দিনের রিমান্ড

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির দুই দিনের রিমান্ড

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। একইসঙ্গে আগামী ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ।

অভিযানে ভবনটি থেকে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগ, এসব বিদেশি নাগরিক অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধে জড়িত। পরে শুক্রবার সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলশী থানায় মামলা করে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত করছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এদিকে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার মো. মহসীন নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই রাতেই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারের সময় খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানিয়েছিলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি তাদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল। মহসীনের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মহসীনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীতে অবস্থান করা ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারযোগে কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসীন। পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে। ওই কোকেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর একটি ভবনে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পায় পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে ৬৩ বিদেশির কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা মহসীনের মাধ্যমে জুনের দিকে বাংলাদেশে আসেন। প্রথমে ঢাকায় দুই দিন অবস্থানের পর তারা চট্টগ্রামে চলে যান।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, সাইবার অপরাধে সম্পৃক্ততা এবং মহসীনসহ অন্য সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরএমএন/জেডএস