বিজ্ঞাপন

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসি বাস ভাড়া নিষিদ্ধ করতে লিগ্যাল নোটিশ

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসি বাস ভাড়া নিষিদ্ধ করতে লিগ্যাল নোটিশ

সাধারণ মানুষের গণপরিবহন সংকট দূর করতে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিআরটিসি বাস ভাড়া দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বিআরটিসির বহরে থাকা শতভাগ বাস কেবলমাত্র সাধারণ যাত্রীদের সেবায় উন্মুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে যাতায়াতের প্রয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব বাস কিনতে অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা ভাড়া নিতে বাধ্য করার দাবি জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্যই মূলত জনগণের করের টাকায় বিআরটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিআরটিসি তাদের বহরের সবগুলো বাস সাধারণ জনগণের সেবায় পুরোপুরি নিয়োজিত না করে, এর একটি বিশাল অংশ বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ভাড়ায় প্রদান করছে। ফলে নিজেদের করের টাকায় কেনা বাস রাস্তায় না পেয়ে সাধারণ মানুষ চরম পরিবহন সংকটে পড়ে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন, অথচ বিপুলসংখ্যক বাস কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে আটকে থাকছে। রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন থেকে সাধারণ জনগণকে বঞ্চিত করার এই বৈষম্যমূলক নীতি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

নোটিশে সামষ্টিক অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নেয়, তখন রাষ্ট্রের অর্থ কেবল এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতেই আবর্তিত হয়। এর ফলে একটি বদ্ধ চক্র তৈরি হয় এবং সরকারের এই অর্থ কোনোভাবেই বেসরকারি বাজারে বা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না। একটি সুস্থ ও গতিশীল অর্থনীতির জন্য সরকারি অর্থ বেসরকারি খাতে প্রবাহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বাজার স্থবির হয়ে পড়ে।

নোটিশে আগামী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসি বাস ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে, বিআরটিসির সমস্ত বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এমএইচডি/জেআই