বিজ্ঞাপন

রোজায় ক্লান্তিহীন থাকার উপায়

রোজায় ক্লান্তিহীন থাকার উপায়

তাপমাত্রা বাড়ছেই। এদিকে চলছে রমজান মাস। প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে। গরমে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতার সমস্যা। রোজায় সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে এই সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। শরীরে পানির ঘাটতি দূর না হলে সহজেই নিস্তেজ হয়ে পড়বেন। ক্লান্তি দূর না করলে রোজা রাখা কষ্টকর হবে। এসময় নিজেকে সুস্থ রাখা আরও বেশি জরুরি। রোজা রেখেও দিনভর সতেজ থাকার আছে কিছু উপায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললেই আপনি রোজায়ও থাকতে পারবেন অবসাদমুক্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেজন্য কোন কাজগুলো করতে হবে-

Dhaka Post

রুটিন তৈরি করে নিন

রোজায় কখন কোন কাজটি করবেন তার একটি রুটিন তৈরি করে নিন। নির্দিষ্ট সময়ে সাহরি শেষে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে পারেন। তবে খাওয়ার পরপরই ঘুম নয়, তার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে নিন। এই ঘুম যেন দীর্ঘ সময় না হয়। বেশি ঘুমালে ক্লান্তি তো কাটবেই না, উল্টো মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সকালের ঘুম দীর্ঘ করবেন না। দিনের সময়গুলো ভাগ করে নিন। সেই ভাগ অনুযায়ী কাজ শেষ করুন। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজটি করলে দেখবেন, অনেকটাই সময় বেঁচে গেছে।

Dhaka Post

খেয়াল রাখুন খাবারের দিকে

রোজায় যে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হয় সেটি হলো খাবার। এসময় খাবারে অনিয়ম হলে দেখা দেবে অসুস্থতা। সাহরি ও ইফতারে কোনো রকম অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া চলবে না। এমন সব খাবার খেতে হবে যেগুলো সহজে হজম হয়। এসময় রেড মিট, ভাজা-পোড়া, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। এসব খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, বদ হজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রোজায় সবজি, ফলমূল ও ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে।

Dhaka Post

পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি

রোজায় ক্লান্ত লাগার সবচেয়ে বড় কারণ হলো শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হওয়া। এসময় সারাদিন পানি ও খাবার থেকে বিরত থাকার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তাই ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত যতটা সম্ভব পানি পান করতে হবে। এটি একটু কঠিন হলেও সুস্থ থাকার জন্য এর বিকল্প নেই। শুধু পানি খেতে ভালো না লাগলে খেতে পারেন শরবত তৈরি করে। স্যালাইন, জুস কিংবা ডাবের পানিও খেতে পারেন। পাশাপাশি এমন খাবার খান যাতে পানির পরিমাণ বেশি।

Dhaka Post

ঘুমে অনিয়ম করবেন না

বছরের অন্যান্য সময় আগেভাগে ঘুমাতে যাওয়া সম্ভব না হলেও রোজায় সেই অভ্যাস বদলাতে হবে। যেহেতু সাহরিতে উঠতে হবে তাই আগেভাগে ঘুমাতে চলে যান। আজানের পরপরই নামাজ আদায় করে নিলে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে আর বাধা থাকবে না। ঘুমের আগে স্মার্টফোনসহ যেকোনো গ্যাজেট হাতে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে ঘুম তাড়াতাড়ি আসবে। অ্যালার্ম সেট করে রাখুন যেন সাহরির সময় উঠতে পারেন। কোনোভাবে সাহরি খাওয়া বাদ পড়লে সারাদিন আরও বেশি ক্লান্ত লাগবে।

Dhaka Post

অলসতা নয়

রোজায় কিছুটা ক্লান্তি লাগবেই। তাই বলে সুযোগ পেলেই অলসতা করবেন না। বিশ্রামের জন্য সময় পেলেও বিছানায় গা এলিয়ে থাকবেন না। তাতে আরও বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। বরং এমন সব কাজ করুন যাতে শরীর কার্যক্ষম থাকে। হাঁটাহাঁটি করুন, ঘরের টুকিটাকি কাজ করুন, ইফতারের জন্য খাবার তৈরি করতে পারেন। অলস বসে থাকলে ক্লান্তি জেঁকে বসবে। তাই নিজেকে কর্মক্ষম রাখার চেষ্টা করুন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

এইচএন/এএ