বিজ্ঞাপন

শিশুর সামনে যেসব কাজ করবেন না

শিশুর সামনে যেসব কাজ করবেন না

আপনার সন্তান আপনারই আয়না, বিশ্বাস করেন তো? আপনাকে যেমনটা দেখবে, শিশু কিন্তু তাই শিখবে। সে যখন পৃথিবীতে আসে, সবকিছুই তার কাছে নতুন। এরপর আপনাদের দেখাদেখি একটু একটু করে সে শিখতে শুরু করে। ভালোবাসা দিলে ভালোবাসতে শেখে, অবহেলা দিলে অবহেলা। সন্তান হওয়ার পর প্রত্যেক মা-বাবারও নতুন কিছু দায়িত্ব যোগ হয়। তাকে সুন্দর ব্যবহার শেখানোর দায়িত্বও কিন্তু আপনাদের। মা-বাবার ভেতরে সম্পর্ক সুন্দর না থাকলে, একে অন্যকে দোষারোপ করতে থাকলে বা ঝগড়া বিদ্যমান থাকলে তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়বেই। এসব ছাড়াও সন্তানের সামনে কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

টিভি ও ফোন কম ব্যবহার

আপনি যদি বেশিরভাগ সময় ফোন ও টিভি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তবে আপনার সন্তানও তাতে অভ্যস্ত হবে। সময় কাটানোর জন্য সে এগুলোই বেছে নেবে। এ ধরনের অভ্যাস নিশ্চয়ই ভালো কিছু নয়। তাই সতর্ক থাকতে হবে আপনাকেই। তাই শিশুকে এসব থেকে দূরে রাখার জন্য আপনাকেও ছাড় দিতে হবে, ফোন কিংবা টিভির পেছনে কম সময় ব্যয় করতে হবে। এর বদলে বই পড়া, গাছ লাগানো, ছবি আঁকা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে শিশুকে আগ্রহী করে তুলতে পারেন।

Dhaka Post

কাউকে অপমান করবেন না

আপনি যদি শিশুর সামনে কাউকে অপমান করেন তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিশুর ওপরও। কারও সঙ্গে মতের মিল না হলে বা কারও কোনো আচরণ পছন্দ না হলেও তাকে অপমান করবেন না। বরং ঠান্ডা মাথায় তার সমাধান করুন। তাদের প্রতি ক্ষোভ উচ্চস্বরে প্রকাশ করবেন না। আপনাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখলে আপনার দেখাদেখি শিশুও তা শিখবে। তাই শিশুর কাছ থেকে ভালো আচরণ আশা করলে আপনাকেই তা ধরে রাখতে হবে। 

খাবার নষ্ট করবেন না

শিশুর সামনে কোনো খাবারকেই সহজলভ্য করে তুলবেন না। খাবার নষ্ট করতে দেবেন না। তাকে খাবারের গুরুত্ব বুঝতে শেখান। তার পেছন পেছন খাবার নিয়ে ছুটবেন না বা খাবারের জন্য জোরাজুরি করবেন না। বরং ক্ষুধা পেলে তাকে নিজের হাতে খেতে শেখান। খাবার অপচয় করা কেন ঠিক নয়, তাও বুঝিয়ে বলুন।

ভদ্রতা বজায় রাখুন

সন্তান আশেপাশে থাকলে স্বামী-স্ত্রী ভদ্রতা বজায় রাখুন। বাচ্চার সামনে এমন কোনও কাজ করা থেকে বিরত থাকুন, যা তাদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। সর্বদা শৃঙ্খলা বজায় রাখুন এবং ভাল আচরণ করুন।

Dhaka Post

চিৎকার করে কথা বলবেন না

অনেক সময় রেগে গেলে  বা বিরক্ত হলে আমরা চিৎকার করে কথা বলি। কিন্তু শিশুর সামনে এমনটা করবেন না। মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। আপনি তার সামনে ধৈর্যশীল আচরণ করলে শিশুও তাই শিখবে। আর সে যদি আপনাকে চিৎকার-চেচামেচি করতে দেখে তবে তাই ঠিক বলে ধরে নেবে। 

বডি শেমিং করবেন না

শিশুর সামনে তো নয়-ই, তার আড়ালেও কাউকে নিয়ে বডি শেমিং করবেন না। কারও গায়ের রং, চেহারা, শারীরিক গঠন নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না। কারণ কেউ নিজেকে সৃষ্টি করতে পারেন না। স্রষ্টা যাকে যেভাবে তৈরি করেছেন, সে সেভাবেই সুন্দর। এই বোধটুকু আপনার সন্তানের ভেতরও ধারণ করতে শেখান।

এইচএন/এএ

বিজ্ঞাপন