৫ স্বাস্থ্যকর খাবার : ভুলভাবে খাচ্ছেন বলে শরীরে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়
প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে স্বাস্থ্যকর অনেক খাবারই যোগ করা হয়। কিন্তু খাওয়ার সময় এমন কিছু ভুল করা হয়, যা শেষমেশ শরীরের ক্ষতিই করে। এই ভুলগুলো হয়ে থাকে সম্পূর্ণ অজান্তেই। ফলে দিনের পর দিন একই ত্রুটি হয়ে চলে। শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিলে হবে না। কীভাবে খাচ্ছেন, তার ওপরেও নজর দিতে হবে। সুস্থ থাকতে খাওয়ার পদ্ধতিতেও আনতে হবে বদল।
দই : প্রতিদিনের খাবার টেবিলে দই থাকে অনেকেরই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি আরও ভালো করতে দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। শরীরে শক্তি বাড়াতে যেমন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট দরকার, তেমনই খেয়াল রাখতে হবে, যেন খাবারের মধ্যে ভিটামিন ও খনিজ সমান পরিমাণে থাকে। সে জন্যই প্রতিদিন পাতে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ টক দই রাখতে বলেন পুষ্টিবিদেরা। অনেকেই গরম ভাতের সঙ্গে দই মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন। এই অভ্যাস কিন্তু ভালো নয়। গরমের কারণে দইয়ের ভেতরে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলো মরে যায়। ফলে দইয়ের কোনো গুণই যায় না শরীরে।
কমলালেবু : শীত মানেই কমলালেবুর মৌসুম। কমলালেবুতে রয়েছে ভরপুর পরিমাণে ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভিটামিন সি-এর জুড়ি মেলা ভার। শীতকালীন সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে কমলালেবু। তা ছাড়া শীতকালে পানি খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে পানির বিকল্প হতে পারে কমলালেবু। ত্বকের যত্ন নিতেও কমলালেবুর ভূমিকা অপরিহার্য। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের পুষ্টি কোলাজেন উৎপাদন করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া কমলালেবুতে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, মিনারেলস— সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে কমলালেবু সত্যিই উপকারী। তবে কমলালেবুর রস বানিয়ে খান কেউ কেউ। এতে কিন্তু শরীরে লাভের বদলে ক্ষতি বেশি হয়। রস করলে সব ফাইবার বেরিয়ে যায়, আর রসের মাধ্যমে রক্তের শর্করার মাত্রা একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়।
কলা : কলার স্বাস্থ্যগুণ অনেক। হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখা থেকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ— সবকিছুতেই কলার ভূমিকা অনেক। মানসিক অবসাদে ভুগলেও প্রতিদিন কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। কলায় কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমে। কলায় থাকা আয়রন রক্তাল্পতার মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। ট্রিপটোফ্যান, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি-র মতো একাধিক স্বাস্থ্যগুণ সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের যত্ন নেয়। প্রাতরাশে অনেকেই কলা খান। তবে খালি পেটে এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যায়। তাই প্রাতরাশে কিছু খেয়ে তার খানিক ক্ষণ পরেই কলা খেতে হবে।
পাতিলেবু : প্রতিদিন ডায়েটে লেবু রাখা ভীষণ জরুরি। লেবুতে থাকে ভিটামিন সি, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শরীর চাঙ্গা রাখে, ত্বক ও চুলের জেল্লা বৃদ্ধি করে। তবে খুব বেশি গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খেলে তাতে থাকা ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়, তাই কোনো লাভ হয় না। তাই লেবু পানি খেতে হলে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা পানিতে মিশিয়ে খান।
মধু : শীতে সংক্রমণ ঠেকাতে মধুও দারুণ উপকারী। তবে লেবুর মতোই অতিরিক্ত গরম পানিতে মেশালে মধুর গুণও নষ্ট হয়ে যায়। তাই মধু খেতে হলে ঈষদুষ্ণ পানি মিশিয়েই খাওয়া ভালো।
এসএম

