অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার স্বভাব বদলে দিচ্ছে? লক্ষণগুলো চিনে নিন
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেট ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন কিংবা যোগাযোগ—সবকিছুই এখন স্ক্রিননির্ভর। তবে এই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিই যখন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখনই তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় আমরা টেরই পাই না, কখন এই প্রয়োজনীয় ব্যবহারটি আসক্তিতে রূপ নিয়েছে।
প্রযুক্তি আসক্তির উল্লেখযোগ্য কিছু লক্ষণ
১. অবিরাম ক্লান্তি ও শারীরিক অস্বস্তি প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি। দীর্ঘক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখ ভারী লাগা, মাথাব্যথা কিংবা শরীর অবসন্ন হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি এই ক্লান্তি দূর না হয়, তবে বুঝতে হবে এটি প্রযুক্তি-নির্ভরতার একটি স্পষ্ট সংকেত।
২. ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বর্তমানে ঘুমের ব্যাঘাত প্রযুক্তি আসক্তির একটি বড় উদ্বেগ। ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নিতে বাধা দেয়। স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের গুণমান নষ্ট হয়। নিয়মিত ঘুমের এই ব্যাঘাত থেকে দিনের বেলায় মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ তৈরি হয়।
৩. একাগ্রতার অভাব কোনো কাজ করতে বসে বারবার ফোনের দিকে তাকানো, অকারণে নোটিফিকেশন চেক করা কিংবা বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে মন পরিবর্তন করা প্রযুক্তি আসক্তির লক্ষণ। এর ফলে কাজের দক্ষতা কমে যায় এবং মনের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। মানুষ অজান্তেই এই ডিজিটাল অভ্যাসের গোলকধাঁধায় আটকে পড়ে।
৪. মানসিক অস্থিরতা ও মেজাজ পরিবর্তন দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে থাকলে বিরক্তি, অস্থিরতা কিংবা অকারণে রেগে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের কৃত্রিম জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করা থেকে মানসিক চাপ ও হতাশা জন্ম নেয়। এতে বাস্তব জীবনের সাধারণ আনন্দগুলো ফিকে হয়ে যায়।
৫. সম্পর্কের দূরত্ব প্রযুক্তি আসক্তির সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেয়ে অনেকেই এখন ভার্চুয়াল জগতে সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এর ফলে বাস্তব সম্পর্কের মধ্যকার আবেগীয় দূরত্ব বাড়ে। একসঙ্গে থেকেও একে অপরের সঙ্গে কথা না বলার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এমএন
