রাতে ঘুম আসে না? জেনে নিন সহজ সমাধান
ঘুম না আসা কেবল একটি সাধারণ সমস্যা নয়, এটি আমাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাব আমাদের স্মৃতিশক্তি, একাগ্রতা এবং মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার ফলে দেখা দেয় হতাশা, স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা। তবে এমন কিছু সহজ, প্রাকৃতিক সমাধান রয়েছে যা ঘুমের উন্নত করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
পান করুন
ঘুমের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উষ্ণ দুধ, ক্যামোমাইল চা ইত্যাদি পানীয় ভীষণ কার্যকরী। যদিও রাতের বেলার এই পানীয়র কোনোটির ঘুমের উন্নতিতে কাজ করে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই, তবে এগুলো ব্যবহার করার কোনো ক্ষতি নেই। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ওষুধের মিথস্ক্রিয়া ছাড়াই চিকিৎসা চান এমন রোগীদের জন্য এগুলো বেশি উপকারী।
উষ্ণ দুধ এমন রাসায়নিকের সঙ্গে যুক্ত যা মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যানের প্রভাব অনুকরণ করে। এটি সেরোটোনিন পদার্থের জন্য একটি রাসায়নিক বিল্ডিং ব্লক, যা ঘুম-জাগরণের পরিবর্তনের সাথে জড়িত। ক্যামোমাইল চাও সহায়ক হতে পারে। এতে ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয় যা মস্তিষ্কে বেনজোডিয়াজেপাইন রিসেপ্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে যা ঘুম-জাগরণের পরিবর্তনের সঙ্গেও জড়িত।
ব্যায়াম
শারীরিক কার্যকলাপ ঘুমের উন্নতি করতে পারে, যদিও গবেষকরা এর কারণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। এটা জানা যায় যে মাঝারি অ্যারোবিক ব্যায়াম ঘুমের পরিমাণ বাড়ায়। কিন্তু আপনাকে সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে অ্যারোবিক ব্যায়াম এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে, যা মানুষকে জাগ্রত রাখে। এটি শরীরের মূল তাপমাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে; এই স্পাইক শরীরকে সংকেত দেয় যে ঘুম থেকে ওঠার এবং কাজ শুরু করার সময় হয়েছে। যদি আপনার ঘুমাতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘুমানোর দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।

শীতল পরিবেশ
ভালো ঘুমের জন্য ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখা উচিত এবং বিছানায় সুতি বা আরামদায়ক কাপড় পরা উচিত। শীতল পরিবেশ ঘুমের জন্য বাড়তি সহায়তা দেবে। যাদের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে তারা তো বাড়তি সুবিধা পাবেনই, তবে যাদের সেই সুযোগ নেই, তাদের উচিত শোবার ঘর যতটা সম্ভব শীতল রাখা।
ঘর অন্ধকার রাখুন
স্মার্টফোনের আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু আপনার বাথরুমের আলোর কী হবে? যদি আপনার রাতে যাওয়ার তাড়না থাকে, তাহলে আলো জ্বালাবেন না। রাতে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজন হলে টর্চলাইট ব্যবহার করুন, কারণ এটি দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত কম করে। মনে রাখবেন, যদি আপনি বাথরুমের বিরতির জন্য ঘুম থেকে ওঠেন, তাহলে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়তে মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এইচএন
