ওজন কমানো থেকে হার্টের যত্নে যা করতে পারবেন
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান ২০২৬। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিম যখন সিয়াম সাধনা, আত্মশুদ্ধি আর আধ্যাত্মিক উন্নতির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও দিচ্ছে চমকপ্রদ সব তথ্য। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি শরীর ও মনের ওপর এক জাদুকরী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস-এর সাম্প্রতিক এক তথ্যে দেখা গেছে, রমজানের রোজা শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনে। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সামগ্রিক সুস্থতায় পালন করে এক অনবদ্য ভূমিকা।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেদমুক্তি : রোজার মাসে সেহরি ও ইফতারের নির্দিষ্ট সময়সীমার কারণে শরীরে ক্যালরি গ্রহণের একটি স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়। হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের মতে, রোজা রাখার ফলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘ সময় বিশ্রামের সুযোগ পায়। এতে শরীর তার সঞ্চিত পুষ্টি উপাদানগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে, যা কোনো কঠোর ডায়েট ছাড়াই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে দারুণ সহায়ক।
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস : চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, রমজানের রোজা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতেও রোজার ভূমিকা অপরিসীম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় হৃদযন্ত্র দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকে।
মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি : রোজার একটি চমকপ্রদ দিক হলো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি। গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাসের সময় আমাদের মস্তিষ্কে 'ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর' (BDNF) নামক এক বিশেষ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ে। এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সজীব রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক প্রশান্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ : রমজান মানেই ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির মাস। হার্ভার্ডের গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় একাগ্রতা ও নেতিবাচক অভ্যাস ত্যাগের ফলে রোজাদারদের মধ্যে 'মেন্টাল ক্ল্যারিটি' বা মানসিক স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায়। এই এক মাস আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখা ও মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়।
এমআইকে
