ইসবগুল সম্পর্কে যে ধারণাগুলো সঠিক নয়
ইসবগুল দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যার জন্য একটি বিশ্বস্ত প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা থেকে শুরু করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য এই সহজ ফাইবার সম্পূরকটি প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরে স্থান করে নিয়েছে। ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, এর প্রাকৃতিক গঠন এবং মৃদু কার্যকারিতা শরীরের জন্য বেশ সহায়ক। কিন্তু অনেক বহুল ব্যবহৃত ঘরোয়া প্রতিকারের মতো ইসবগুলও বেশ কয়েকটি ভুল ধারণা দ্বারা বেষ্টিত যা সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইসবগুল সম্পর্কে কোন ধারণাগুলো আপনার আপনার বিশ্বাস করা বন্ধ করা উচিত-
১. ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়
ইসবগুল সাইলিয়াম হাস্ক নামেও পরিচিত, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। এটি প্লান্টাগো ওভাটা বীজের বাইরের খোসা এবং মূলত কেবল দ্রবণীয় ফাইবার। অনেকে ধরে নেন এটি প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম, তবে এটি আসলে সরাসরি উদ্ভিদ উৎস থেকে আসে। এর সরল গঠন হজমের জন্য কোমল, নিরাপদ এবং কার্যকরী। এতে কৃত্রিম কিছু নেই।
২. ইসবগুল নির্ভরতা সৃষ্টি করে
একটি ব্যাপক বিশ্বাস হলো যে একবার আপনি ইসবগুল খাওয়া শুরু করলে মলত্যাগের জন্য এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। এটি সত্য নয়। ইসবগুল উদ্দীপক রেচক নয়, যার অর্থ এটি অন্ত্রকে নড়াচড়া করতে বাধ্য করে না। পরিবর্তে এটি পানি শোষণ করে, জেল তৈরি করে, ভর যোগ করে এবং স্বাভাবিকভাবেই মলত্যাগ সহজ করে তোলে। এটি অন্ত্রের সঙ্গে কাজ করে, এর বিরুদ্ধে নয়। যার অর্থ এটি অভ্যাস গঠনের প্রভাব তৈরি করে না।

৩. ইসবগুল গ্যাস বৃদ্ধি করে
যেকোনো ধরনের ফাইবার খুব দ্রুত গ্রহণ বাড়ালে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে। ওটস, চিয়া বীজ, ফল এবং সবজির ক্ষেত্রেও এটি সত্য- এবং ইসবগুলও এর থেকে আলাদা নয়। মূল বিষয় হলো ধীরে ধীরে ফাইবার প্রবর্তন করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা। গ্যাস কেবল একটি লক্ষণ যার মাধ্যমে বোঝা যায় যে আপনার অন্ত্র সামঞ্জস্য করছে। তাই সিস্টেমকে আরামে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য ধীরে ধীরে ফাইবার বাড়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া খারাপ
কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকারক। বাস্তবে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, বিশেষ করে যদি আপনার খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবারের অভাব থাকে। বেশিরভাগ ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবারের প্রয়োজন হয়, এবং অনেকেই এর ঘাটতি অনুভব করেন। ইসবগুল এই ঘাটতি সহজেই পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে ইসবগুল খেতে পারেন।
৫. ইসবগুলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইসবগুল সাধারণত সঠিকভাবে গ্রহণ করা নিরাপদ। একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো এটি শুষ্ক অবস্থায় গ্রহণ করা এড়ানো, কারণ এটি শ্বাসরোধ বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এটি নিরাপদে প্রসারিত হতে এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে সব সময় এক গ্লাস পানি পান করুন। দিনে ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা সর্বোত্তম পন্থা। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে ইসবগুলের কোনো বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
এইচএন
