ঘুমালে ঘাম হয়? জেনে নিন কারণ
অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, ঘুমের ভেতরে ঘাম হওয়ার সমস্যা সাধারণ মনে হলেও আসলে সব সময় তা সাধারণ না-ও হতে পারে। ঘন ঘন রাতের ঘাম হরমোনের পরিবর্তন, সংক্রমণ, মানসিক চাপ, রক্তে শর্করার ওঠানামা অথবা ঘুমের ব্যাধির ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাতের ঘাম নিজে রোগ নির্ণয়ক নয় বরং একটি লক্ষণ। ঘুমের সময় যখন ঘন ঘন বা অতিরিক্ত ঘাম হলে হরমোন, বিপাকীয়, সংক্রামক বা জীবনযাপন-সম্পর্কিত কারণ খেয়াল করা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় ঘামের সাধারণ কারণ জেনে নিন-
১. হরমোনের পরিবর্তন
রাতের ঘামের সবচেয়ে সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে হরমোনের ওঠানামা। নারীদের ক্ষেত্রে পেরিমেনোপজ এবং মেনোপজ ঘুমের মধ্যে গরম ঝলকানি সৃষ্টি করতে পারে। ইস্ট্রোজেনের তীব্র হ্রাস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে, যার ফলে রাতে অতিরিক্ত ঘাম হয়। থাইরয়েড রোগ বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম, যা একটি অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড। এটি বিপাকীয় হার এবং শরীরের তাপমাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে রাতে ঘাম হয়। শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে এই হরমোন সরাসরি ভূমিকা পালন করে।
২. সংক্রমণ
কিছু সংক্রমণের ফলে রাতের বেলায় ক্রমাগত ঘাম হতে পারে, বিশেষ করে যখন জ্বর, ক্লান্তি বা অব্যক্ত ওজন হ্রাসের মতো সমস্যা থাকে। এছাড়াও যক্ষ্মা, ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে রাতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে। যদি ঘাম তীব্র হয় এবং এর সাথে সিস্টেমিক লক্ষণ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

৩. চাপ এবং উদ্বেগ
আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে। চাপ বা উদ্বেগ সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করতে পারে, হৃদস্পন্দন ত্বরান্বিত করে এবং ঘাম বাড়ায়। যারা স্পষ্ট স্বপ্ন দেখেন, আতঙ্কিত হন বা অনিদ্রা অনুভব করেন তাদের কোনো স্পষ্ট শারীরিক কারণ ছাড়াই ঘাম হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
৪. রক্তে শর্করার ওঠানামা
রাতের ঘাম রক্তে শর্করার পরিমাণ কম থাকার কারণে বা রাতের হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ফলেও হতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন বা কিছু ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে। এছাড়া অস্থিরতা, দুঃস্বপ্ন, ঘুম থেকে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা, সকালের ক্লান্তি ইত্যাদিও দেখা দিতে পারে।
এইচএন
