পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন গ্রহণ করার সবচেয়ে সহজ উপায়ের মধ্যে একটি হলো রান্নাঘরে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পরিমাণ কমানো। যদিও খাবার তাজা রাখার ক্ষমতার কারণে রান্নাঘরে প্লাস্টিক প্রয়োজন পড়েই, তবে এটা স্বীকার করতেই হবে যে দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্লাস্টিক। সৌভাগ্যবশত, দূষণ না ঘটিয়ে খাবার তাজা রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিকল্প বেশ কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্লাস্টিক ব্যবহার না করে কীভাবে খাবার সংরক্ষণ করবেন-
বিজ্ঞাপন
হিমায়িত করার জন্য কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন
যদি আপনার খাবার হিমায়িত করার প্রয়োজন হয়, তবে প্লাস্টিকের পাত্রের পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র বেছে নেওয়া উচিত। এর কারণ হলো কাঁচ এবং স্টিলের পাত্র বেশি টেকসই এবং পুনরায় ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও খাবারের ওপর এগুলোর কোনো রাসায়নিক প্রভাব নেই। কাঁচ এবং স্টিলের পাত্রের আরেকটি সুবিধা হলো এগুলো খাবারের গুণমান বজায় রাখে। এই পাত্রগুলো বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আপনি বর্জ্যের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি আপনার রান্নাঘরকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে পারেন।
শিম ও মটরশুঁটি ভেজা কাপড়ে মুড়ে রাখুন
বিজ্ঞাপন
শিম ও মটরশুঁটির মতো সবুজ শাক-সবজি ভেজা কাপড়ে মুড়ে রাখা প্রয়োজন। এতে করে এগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকবে, কিন্তু অতিরিক্ত পানি চমবে না। এই সবুজ শাক-সবজি ফ্রিজে রাখলে তা দীর্ঘ সময় ধরে তাজা থাকবে।

রুটি কাপড়ে মুড়ে ব্রেড বক্সে রাখুন
রুটি কাপড়ে মুড়ে ব্রেড বক্সে রাখলে তা দীর্ঘ সময় ধরে টাটকা থাকে। কাপড়টি রুটিকে শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, আর ব্রেড বক্সটি এতে অতিরিক্ত বাতাস ও আর্দ্রতা প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এই পদ্ধতি কোনো প্লাস্টিক ছাড়াই রুটিকে নরম রাখতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন
কলা এবং টমেটো সরাসরি ফল ফ্রিজে রাখুন
কলা, টমেটো এবং আঁটিযুক্ত ফলের মতো কিছু ফল সরাসরি ফ্রিজে রাখা যায়। এতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে এবং ফলের সংরক্ষণকালও বাড়ে। পরে এই ফল দিয়ে স্মুদি বা সস তৈরি করা যায়। এটি খাদ্য অপচয় কমানোর একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি।
অবশিষ্ট খাবার বয়ামে সংরক্ষণ করুন
প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার না করে, কাচের বয়াম বা ঢাকনাযুক্ত প্লেট ব্যবহার করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। কাচ বিষাক্ত নয় এবং এটি বারবার ব্যবহার করা যায়। এটি কোনো গন্ধ শোষণ না করেই খাবারকে সতেজ রাখে। এছাড়াও, এর ফলে পাত্রের ভেতরে কী আছে তা দেখা যায়, যা খাদ্য অপচয় কমাতে সাহায্য করে।
পেঁয়াজ ও আলু ঝুড়িতে রাখুন
পেঁয়াজ ও আলু ঠান্ডা, অন্ধকার এবং ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখা উচিত। এগুলোর জন্য ঝুড়ি সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা, কারণ এটি বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেয় এবং আর্দ্রতা জমতে বাধা দেয়। এগুলোকে সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখলে অঙ্কুরোদগম ও পচনও রোধ হয়। পেঁয়াজ ও আলু একসাথে রাখা উচিত নয়, কারণ পেঁয়াজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়, যা আলুর পচনের কারণ হতে পারে।
ভেষজ পাতা পানির জারে সংরক্ষণ করুন
সতেজ ভেষজ পাতা ফুলের মতো যত্ন নিলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। ভেষজ পাতা কেটে পানিভর্তি জারে সংরক্ষণ করুন। ভেষজ পাতার প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে, আপনি এগুলো ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা রেফ্রিজারেটরে রাখতে পারেন। এভাবে, ভেষজ পাতাগুলো সতেজ থাকে এবং শুকিয়ে যায় না।
এইচএন
