বিজ্ঞাপন

কমলা না কি কলা, সকালে কোনটি বেশি উপকারী?

কমলা না কি কলা, সকালে কোনটি বেশি উপকারী?

অ+
অ-

সকালের খাবার আমাদের সারাদিনের শক্তির মাত্রা থেকে শুরু করে মনোযোগ ধরে রাখা পর্যন্ত নানা কাজে ভূমিকা পালন করে। যদিও অনেকের কাছে সকালে উঠে এককাপ কফি বেশি পছন্দের। কিন্তু যারা হালকা, প্রাকৃতিক এবং সহজে হজমযোগ্য কিছু খুঁজছেন তাদের জন্য ফল একটি উত্তম পছন্দ হতে পারে। কলা এবং কমলা সকালের নাস্তার জন্য সবচেয়ে পরিচিত খাবারের মধ্যে অন্যতম। সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও এগুলো শরীরে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে প্রভাব ফেলে। এই পার্থক্যগুলো বুঝতে পারলে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে আপনার সকালের জন্য কোনটি বেশি উপযুক্ত।

বিজ্ঞাপন

কলা: শক্তির উৎস

কলা শর্করায় সমৃদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ, যা সহজে ব্যবহারযোগ্য শক্তি সরবরাহ করে। PLOS One-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে যে, কলার শর্করা উপাদানের কারণে এটি দীর্ঘ শারীরিক কার্যকলাপের সময় কার্যকরভাবে শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে পারে।

কলায় ফাইবার থাকে, যা রক্তে চিনি শোষণের গতি কমাতে সাহায্য করে। এর মানে হলো, এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়ে তার আকস্মিক পতনের পরিবর্তে আরও স্থিরভাবে শক্তি সরবরাহ করে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, যার ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে নির্গত হয় এবং শক্তির মাত্রা আরও স্থিতিশীল থাকে। কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও মাঝারি (প্রায় ৫১), যা হঠাৎ করে শক্তি পাওয়ার পরিবর্তে এই ধীর এবং ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি নির্গমনে সহায়তা করে। এ কারণে, খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতির জন্য যখন শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন কলা বিশেষভাবে উপকারী।

কমলা: হালকা এবং শরীরকে সতেজকারী শক্তির উৎস

অন্যদিকে, কমলায় ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেট কম থাকে কিন্তু পানির পরিমাণ থাকে বেশি। প্রায় ৮৫-৮৭% পানি থাকায়, এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে, যা সজাগ থাকতে এবং ক্লান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, কমলা খেলে তা খাদ্যাভ্যাস এবং শক্তির ভারসাম্য উন্নত করতে কাজ করে। যেহেতু কমলা হালকা এবং সহজে হজম হয়, তাই এটি দ্রুত কিন্তু স্বল্পস্থায়ী শক্তি জোগায়।

বিজ্ঞাপন

শক্তির উৎস: দ্রুত শক্তি বনাম দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি

* কলা: এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি, যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি প্রদানে সহায়তা করে।

* কমলা: এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম কিন্তু এটি শরীরকে আর্দ্র রাখে, যা দ্রুত এবং হালকা শক্তি যোগায়।

কমলার তুলনায় কলায় প্রায় দ্বিগুণ কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শক্তি কতক্ষণ স্থায়ী হবে তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ইলেকট্রোলাইট এবং পুষ্টি উপাদানের ভূমিকা

কলা বিশেষ করে পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা একটি অপরিহার্য খনিজ এবং এটি পেশীর কার্যকারিতা ও শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। অন্যদিকে, কমলায় ভিটামিন সি এবং পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং হালকা পানিশূন্যতার কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে শক্তি প্রদানে অবদান রাখে, একটি জ্বালানি হিসেবে এবং অন্যটি শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রেখে।

সকালে কোনটি বেছে নেবেন?

* যদি আপনার দীর্ঘস্থায়ী শক্তির প্রয়োজন হয় বা সকালটা ব্যস্ততার মধ্যে কাটাতে হয়, তবে কলা বেছে নিন।

* যদি আপনি হালকা, আর্দ্র এবং সহজে হজমযোগ্য কিছু চান, তবে কমলা বেছে নিন।

কিছু ক্ষেত্রে, উভয় ফল একসঙ্গে গ্রহণ করলে শরীরকে আর্দ্র রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি- উভয়ই সরবরাহ করার মাধ্যমে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ফল পাওয়া যেতে পারে। সকালের শক্তির জন্য কোনো একটিকে সেরা বলা যায় না। কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের উপস্থিতির কারণে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগানোর জন্য কলা বেশি ভালো, অন্যদিকে কমলা হালকা শক্তির জোগান দিয়ে সতেজ ও আর্দ্রতাযুক্ত একটি সুন্দর সূচনা দেয়। কোনটি খাবেন তা বেছে নেওয়া নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন রুটিন, ক্ষুধা এবং কতক্ষণ আপনার শক্তি প্রয়োজন তার ওপর।

এইচএন