বিজ্ঞাপন

আদা কি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে?

আদা কি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে?

পিরিয়ডের সময় ব্যথা কারও কারও জন্য হালকা হতে পারে, আবার অনেকের জন্য তীব্র হতে পারে। এই ব্যথা মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, গরম সেঁক থেকে শুরু করে ব্যথানাশক ওষুধ পর্যন্ত অনেককিছুই কার্যকরী। পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর একটি উপায় হিসেবে আদা চা-কেও উপকারী বলা হয়ে থাকে। এই দাবির মধ্যে কতটা সত্যতা আছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আদা চা কি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদা চা সত্যিই পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদায় জিঞ্জেরলের মতো বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে, যার প্রদাহ-বিরোধী এবং ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্য আছে। পিরিয়ডের ব্যথা মূলত অতিরিক্ত প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কারণে হয়, যা জরায়ুর সংকোচন এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। আদা এই প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকগুলো কমিয়ে কাজ করে, যার ফলে ব্যথা কমে আসে।

ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু মহিলার ক্ষেত্রে আদা হালকা ব্যথানাশকের মতো কাজ করে। গরম আদা চা রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়, যা জরায়ুর পেশী শিথিল করতে আরও সাহায্য করে। পিরিয়ডের সময় দিনে ১-২ বার এক কাপ আদা চা পান করা উপকারী হতে পারে।

আদা যেভাবে ব্যথা কমায়

আদার প্রদাহরোধী এবং ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মাসিকের ব্যথা মূলত অতিরিক্ত প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কারণে হয়, যা জরায়ুর সংকোচন এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। আদা এই প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকগুলো কমিয়ে দেয়, ফলে মাসিকের ব্যথা উপশম হয়।

পিরিয়ডের তীব্র ব্যথা নিরাময়ের উপায়

ব্যথানাশক: প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ব্যথানাশক পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা উপসর্গ দেখা দিলে ব্যথানাশকটি গ্রহণ করুন।

হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ: মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িতে এমন হরমোন থাকে যা ডিম্বস্ফোটন প্রতিরোধ করে এবং পিরিয়ডের ব্যথার তীব্রতা কমায়।

সার্জারি: যদি আপনার মাসিকের ব্যথা এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের মতো কোনো রোগের কারণে হয়, তাহলে আপনার ডাক্তার সমস্যাটির চিকিৎসা করতে এবং উপসর্গগুলো থেকে মুক্তি পেতে সার্জারির পরামর্শ দিতে পারেন।

আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঝুঁকি

* বমি বমি ভাব দূর করে।

* কেমোথেরাপির পরবর্তী বমি বমি ভাব থেকে মুক্তি দেয়।

* গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস কমাতে সাহায্য করে।

* পেট ফাঁপা ও গ্যাস প্রতিরোধ করে।

* কোষের ক্ষয় রোধ করে।

* রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জন হপকিন্স মেডিসিন উল্লেখ করেছে যে, সাপ্লিমেন্টের মতো উচ্চ মাত্রায় আদা গ্রহণ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবে যারা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট থেরাপি (যেমন ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন এবং অন্যান্য রক্ত ​​পাতলা করার ওষুধ) নিচ্ছেন, তাদের এটি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও, বেশি পরিমাণে আদা ইনসুলিনকে প্রভাবিত করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

এইচএন