বিজ্ঞাপন

পানিশূন্যতা কি আপনার বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে?

পানিশূন্যতা কি আপনার বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে?

গরমকালে ডিহাইড্রেশন একটি সাধারণ সমস্যা। তবুও বেশিরভাগ মানুষ এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে মনে করেন না। শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরলের ঘাটতি পূরণ না করলে তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মে প্রভাব ফেলে। যার ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ধীরে ধীরে ডিহাইড্রেশন ত্বকের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে, যার ফলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশন ত্বককে বয়স্ক দেখাতে পারে এবং এটি কেবল সাময়িক অনুজ্জ্বলতা নয়। শরীর এবং ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাব হলে ত্বক তার স্বাভাবিক সতেজতা এবং মসৃণ ভাব হারায়, যার ফলে সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডিহাইড্রেশনযুক্ত ত্বক ক্লান্ত, রুক্ষ এবং কম উজ্জ্বল দেখায়। কারণ ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কার্যকরভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না।

যদিও আর্দ্রতার মাত্রা ফিরে পেলে প্রাথমিকভাবে অবস্থার উন্নতি হতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে ডিহাইড্রেশন অকাল বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর, আর্দ্র ত্বক সাধারণত স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই তারুণ্যময় দেখায়। একারণেই দীর্ঘমেয়াদী ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য আর্দ্রতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত জরুরি।

লক্ষণসমূহ:

* ত্বকে টানটান ভাব

* অনুজ্জ্বল বা নিষ্প্রভ চেহারা

* খসখসে ভাব

* অস্থায়ী সূক্ষ্ম রেখা, বিশেষ করে চোখ এবং মুখের চারপাশে

* ক্লান্ত বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম কোমল ত্বক।

কারও কারও ক্ষেত্রে মেকআপ ত্বকের রেখার মধ্যে জমে যেতে শুরু করতে পারে। ডিহাইড্রেশন-জনিত ত্বকের পরিবর্তনগুলো সঠিক হাইড্রেশন, ময়েশ্চারাইজেশন এবং ব্যারিয়ার রিপেয়ারের মাধ্যমে উন্নত হয়, তবে বয়স-জনিত ত্বকের পরিবর্তনগুলো আরও বেশি কাঠামোগত এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তৈলাক্ত ত্বকেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে, আর একারণেই এই লক্ষণগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বক ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতায় ভুগলে তার বাইরের স্তর থেকে জলীয় অংশ কমে যায়, যার ফলে ত্বককে পাতলা, কম মসৃণ এবং ভঙ্গুর দেখায়। এটি স্বাভাবিকভাবেই ফাইন লাইন এবং বলিরেখার উপস্থিতি বাড়িয়ে তোলে, কারণ প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, বারবার ডিহাইড্রেশন ত্বকের ব্যারিয়ারকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং ত্বকের নিজেকে দক্ষতার সাথে মেরামত করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ইউভি রশ্মির সংস্পর্শ, দূষণ, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতা ত্বকের অকাল বার্ধক্য এবং কোলাজেন দ্রুত ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

কারা পানিশূন্যতাজনিত ত্বকের বার্ধক্যের ঝুঁকিতে থাকেন

অতিরিক্ত গরম, ঘাম, আর্দ্রতা এবং দীর্ঘক্ষণ সূর্যের সংস্পর্শে থাকার কারণে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতাজনিত ত্বকের সমস্যা বিশেষভাবে দেখা দেয়।

কিছু ব্যক্তি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাটান, ঘন ঘন ভ্রমণ করেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করেন অথবা সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ করেন না।

যাদের ত্বকের সুরক্ষা স্তর সংবেদনশীল বা দুর্বল, তাদেরও পানিশূন্যতাজনিত বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং ক্ষতিকর স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার ত্বক থেকে আর্দ্রতা হারানোর পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কীভাবে ত্বককে আর্দ্র রাখবেন

সারাদিন ধরে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য, তবে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা পানিসমৃদ্ধ ফল, শাক-সবজি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবারে ভরপুর সুষম খাদ্যতালিকা গ্রহণের ওপরও নির্ভর করে।

মৃদু ত্বকের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিরিক্ত পরিষ্কার করা এবং অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জলীয় বাষ্পের ক্ষতি বাড়ায়।

নিজের ত্বকের ধরনের সঙ্গে মানানসই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বককে ইউভি রশ্মির ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং আর্দ্রতা হ্রাস প্রতিরোধ করে।

পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান বাদ দেওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এইচএন