পরিবার হলো সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ আশ্রয়। তাইতো দিনশেষে আমরা সবাই পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু সবার পরিবারই কি একইরকম শান্ত ও নিরাপদ হয়? দুঃখজনকভাবে সত্যিটা হলো, না। এমনও অনেক পরিবার আছে যেখানে বসবাস করাটাও পরিবারের অনেক সদস্যের জন্য ভীতিকর হয়ে ওঠে। টক্সিক পারিবারিক পরিবেশ ধীরে ধীরে আপনাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। কিন্তু চাইলেই তো আর পরিবার ছাড়া যায় না। এক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক টক্সিক পারিবারিক পরিবেশে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখবেন-
সামনাসামনি কথা বলুন
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন আচরণগুলো চিহ্নিত করা দিয়ে শুরু করুন। কোন বিষয়টি আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে এবং আপনি কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে চান, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলুন। শান্তভাবে এবং সম্মানের সঙ্গে আপনার চাওয়াগুলো জানান। সহজ থাকুন, কিন্তু দৃঢ়তা বজায় রাখুন।
অপরাধবোধ থেকে বেরিয়ে আসুন
আপনি আপনার অপরাগতা ও সীমাবদ্ধতা জানিয়ে দিলে পরিবারের কিছু সদস্য অখুশি হতে পারেন, বিশেষ করে যদি তারা আপনার সময়, আবেগ বা সিদ্ধান্তের ওপর অবাধ অধিকার প্রয়োগে অভ্যস্ত থাকেন। তবে তাদের অস্বস্তির মানে এই নয় যে আপনি কিছু ভুল করছেন। অপরাধবোধ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু এই অপরাধবোধ যেন আপনার মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট না করে। তাই নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য কিছু বিষয়ে কঠোর হওয়া জরুরি।
নিজের যত্ন নিন
নিজের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করুন। সহায়ক বন্ধু, পরামর্শদাতা বা বিশ্বস্ত আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটান। যদি পারিবারিক আলাপচারিতা অসহনীয় হয়ে ওঠে তবে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন। যে বিষয়গুলো মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, সেসব কথোপকথন বা পরিস্থিতিতে এড়িয়ে চলুন। নম্রভাবে কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সাথে ‘না’ বলতে শিখুন। যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
কাউন্সিলিং
সব সময় আপনার একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট না-ও হতে পারে। সেজন্য পেশাদার কোনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কাউন্সিলিং করা জরুরি হতে পারে। এতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আপনার বন্ধন দৃঢ়ও হয়ে উঠতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সবাইকে সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে।
এইচএন
