আত্মবিশ্বাস রাতারাতি তৈরি হয় না। এটি এমন কিছুও নয় যা শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে। বরং, বেড়ে ওঠার সময় দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। বাবা-মা চান তাদের সন্তানরা আত্মবিশ্বাসী হোক। এদিকে বাবা-মায়ের করা কিন্তু দৈনন্দিন প্রচেষ্টাই পারে সন্তানের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিতে। এমন কিছু সূক্ষ্ম উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে বাবা-মায়েরা একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
রেস্তোরাঁয় তাদের নিজেদের জন্য অর্ডার করতে দিন
রেস্তোরাঁয় যাওয়া আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি দারুণ উপায় হতে পারে। আপনার সন্তানের হয়ে কথা বলার পরিবর্তে, তাদেরকেই ওয়েটারকে বলতে দিন যে তারা কী অর্ডার করতে চায়। এই ছোট আলাপচারিতা শিশুদের যোগাযোগ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। প্রথমে তারা লজ্জা পেলেও, এই ছোট ছোট কথোপকথনের অনুশীলন তাদের সামাজিক পরিস্থিতিতে আরও স্বচ্ছন্দ হতে সাহায্য করে।
গাড়ি চালানোর সময় তাদের দিকনির্দেশনা নিন
ভ্রমণের সময় একটি সহজ কৌশল শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরিতে অবদান রাখতে পারে এবং এর পাশাপাশি সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কনা শিখতেও সাহায্য করে। ভ্রমণের সময় বাবা-মায়েরা শিশুদের দিকনির্দেশনায় সাহায্য করতে, পরিচিত স্থান চিহ্নিত করতে বা তারা কোথায় যাচ্ছে তা খেয়াল করতে বলতে পারেন। শিশুদের দিকনির্দেশনা শিখতে সাহায্য করার জন্য তাদের হাতে জিপিএস ট্র্যাকারও তুলে দিতে পারেন।
দৈনন্দিন দায়িত্বগুলোকে একটি মজার পরিচয় দিন
কখনও কখনও শিশুরা দায়িত্বশীল হতে এবং বড়দের কাজ করতে ভালোবাসে। এই কৌশলটি শিশুদের ছোটখাটো গৃহস্থালির কাজে যুক্ত করতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের শুধু একটি কাজ না দিয়ে তাদের একটি মজার পরিচয় দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি আপনার সন্তানকে গাছে পানি দিতে বলেন, তখন তার নাম দিন ‘গাছের তত্ত্বাবধায়ক’। এইভাবে শিশুরা তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধও গড়ে ওঠে।
নিজেদের জিনিসপত্র গোছাতে দিন
কোনো ভ্রমণ বা বাইরে যাওয়ার আগে সন্তানদের নিজেদের জিনিসপত্র নিজেরাই গুছিয়ে নিতে বলুন। শিশুদের নিজেদের পছন্দের পোশাক বা খেলনা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিলে তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। এই সহজ অভ্যাসটি শিশুদের গোছানোর অভ্যাস এবং স্বাবলম্বী হতে শেখায়।
পরিচয় দিতে শেখা
নতুন কারও সঙ্গে দেখা হলে তাদের নিজেদের পরিচয় দিতে উৎসাহিত করুন। প্রতিবেশী, নতুন শিক্ষক বা পারিবারিক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করা হোক না কেন, আপনার সন্তানকে তার নাম বলতে, অভিবাদন জানাতে এবং নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে উৎসাহিত করুন। এই ছোট ছোট সামাজিক দক্ষতাগুলো ধীরে ধীরে শিশুদের আরও সক্ষম এবং স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে।
এইচএন
