আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের খাওয়ার সময় বা খাওয়া শেষ হতে না হতেই ঘাম হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে এমনটা মনে করাই স্বাভাবিক। খাওয়ার সময় বা খাওয়ার পরপর ঘাম হওয়া ডায়াবেটিসের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ, তবে এর অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। সাধারণত এটি শরীরের একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে কোনটি সাধারণ এবং কখন চিকিৎসার প্রয়োজন তা জানা জরুরি।
গাস্টেটরি সোয়েটিং কী, এটি কি স্বাভাবিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর ঘাম হওয়া, যাকে গাস্টেটরি সোয়েটিং বলা হয়, তা সুস্থ ব্যক্তিদেরও হতে পারে, বিশেষ করে গরম, মসলাদার বা বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর। শুধুমাত্র এর দ্বারা এটা বোঝায় না যে কারও ডায়াবেটিস আছে। সুতরাং, যদি আপনি গরম তরকারি বা বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর সামান্য ঘামেন, তবে সাধারণত এটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
তবে, জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল এন্ডোক্রিনোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১১% ব্যক্তি খাবার গ্রহণের সময় ঘামে ভোগেন। গবেষণাটি তুলে ধরেছে যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এই উপসর্গটি নিউরোপ্যাথি এবং কিডনি রোগের মতো গুরুতর জটিলতার একটি সূচক হিসেবে কাজ করে। ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের মধ্যে এর প্রকোপ অনেক বেশি।
খাওয়ার পর ঘাম কখন ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে একটি সংযোগ থাকে, তবে তা নির্দিষ্ট। দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির অটোনমিক স্নায়ুর (অটোনমিক নিউরোপ্যাথি) ক্ষতির কারণে খাওয়ার সময় বা পরে মুখ, মাথার ত্বক, ঘাড় বা শরীরের উপরের অংশে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলেও ঘাম হতে পারে। ঘামের আরেকটি কারণ হলো যখন রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যায়, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা নির্দিষ্ট ধরণের ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন।
খাওয়ার পর ঘামের আর কী কী কারণ থাকতে পারে?
ডায়াবেটিস হলো অনেক সম্ভাব্য কারণের মধ্যে একটি মাত্র। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
* চর্বিযুক্ত টিস্যু
* উদ্বেগজনিত কারণ
* থাইরয়েডের সমস্যা
* হরমোনের পরিবর্তন
* অসুস্থতা
* খাবারে সংবেদনশীলতা।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
ঝাল খাবার বা গরম পানীয় খাওয়ার পরেও ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে; যদি এটি প্রায় প্রতিটি খাবারের পরেই হয় তাহলে সতর্ক হোন। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ঘাম হলে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার পরেও যদি ঘাম হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ এটি হাইপারথাইরয়েডিজমের একটি লক্ষণ হতে পারে।
এইচএন
