বিজ্ঞাপন

মুখে ঘা হলে বরফ ব্যবহার করা নিরাপদ?

মুখে ঘা হলে বরফ ব্যবহার করা নিরাপদ?

আপনি নিশ্চয়ই কখনো না কখনো এই সমস্যায় ভুগেছেন? বলছি মুখের ঘায়ের কথা। এটি ছোট হলেও বেশ যন্ত্রণাদায়ক, যার কারণে কয়েকদিন ধরে খাওয়া, পান করা, এমনকী কথা বলাও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। যখন এমন ঘা হয়, বেশিরভাগ মানুষই দ্রুত আরাম চান। যে কারণে ঠান্ডা কিছু বেছে নিতে চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মুখের ঘায়ের উপর সরাসরি বরফ দেওয়া কি আসলেই নিরাপদ? কী করলে কাজ হয়, কী এড়িয়ে চলতে হবে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

মুখের ঘায়ে কি বরফ সাহায্য করতে পারে?

হ্যাঁ, তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ঘায়ের ব্যথা উপশম করতে বরফ লাগানো যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। মুখের ঘায়ের উপর কখনোই সরাসরি বেশিক্ষণ বরফের টুকরো লাগিয়ে রাখা উচিত নয়, কারণ খুব ঠান্ডা তাপমাত্রা আক্রান্ত স্থানের চারপাশে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। আপনি কেবল একটি বরফের টুকরো মুখে নিয়ে চুষতে পারেন যতক্ষণ না এটি গলে যায়। এইভাবে আপনি ঘা-কে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডার সংস্পর্শে না এনেও আরামদায়ক উপকারিতা পাবেন, কারণ ঠান্ডা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

মুখের ঘা কেন হয়?

* ধারালো খাবার থেকে দুর্ঘটনাবশত কামড় বা আঘাত
* মানসিক চাপ
* পুষ্টির অভাব, বিশেষ করে আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড বা জিঙ্কের অভাব
* হরমোনের ওঠানামা
* সংক্রমণ
* হজমজনিত সমস্যা, যেমন সিলিয়াক ডিজিজ বা ক্রোনস ডিজিজ
* বেশিরভাগ সাধারণ ঘা কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।

ব্যথা কমানোর অন্যান্য সহজ উপায়

* ঝাল, টক এবং খুব গরম খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ঘায়ের অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে এবং সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।
* স্থানটি পরিষ্কার রাখতে সাধারণ লবণ-পানি দিয়ে কুলি করুন।
* দাঁতের যত্ন নিন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

সব ঘা বাড়িতে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। যদি ঘা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়, খুব ব্যথা হয়, বারবার ফিরে আসে, অথবা দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে না ওঠে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কখনও কখনও এ ধরনের ঘা অন্য কোনো অসুস্থতার উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই সচেতন থাকা জরুরি।

এইচএন