স্মার্টফোন আমাদের যোগাযোগ, কাজ এবং সংযুক্ত থাকার পদ্ধতিকে বদলে দিয়েছে। তবে নোটিফিকেশন, মেসেজ, ইমেল এবং অ্যাপ অ্যালার্ট সারাদিন ধরে ঘন ঘন বাধার সৃষ্টি করতে পারে। যদিও একটি-দুটি নোটিফিকেশন সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে বিপুল পরিমাণ অ্যালার্ট মস্তিষ্কের মনোযোগের ওপর সূক্ষ্ম ও ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে অনেকেই মানসিকভাবে অবসন্ন বোধ করেন এবং পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারেন না।
নোটিফিকেশন কীভাবে মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে
প্রতিটি অ্যালার্ট, তা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট যাই হোক না কেন, মস্তিষ্কের মনোযোগ এবং সতর্কতার নেটওয়ার্কগুলোকে অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় করে তোলে। এই প্রতিক্রিয়াটি উপকারী, কারণ এটি আমাদের অবগত এবং সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। তবে ঘন ঘন নোটিফিকেশন ঘন ঘন আসতে থাকলে মস্তিষ্কের পক্ষে কাজে মনোনিবেশ করা বা মানসিক বিশ্রামের সুযোগ কমে যেতে পারে।
সাইকোনিউরোএন্ডোক্রিনোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, বারবার এই বাধাগুলো অ্যালোস্ট্যাটিক লোড বাড়াতে পারে অর্থাৎ শরীর ও মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এর ফলে মানসিক ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং বারবার মনোযোগ ছুটে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মানসিক ক্লান্তির লক্ষণ
* পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও মনোযোগ দিতে অসুবিধা বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বিভ্রান্তি
* বিরক্তি, অস্থিরতা
* ঘুমাতে সমস্যা
* ঘন ঘন মাথাব্যথা, ঘাড়ে টান বা ঘুমানোর সময় অস্থির মন
* কোনো নতুন নোটিফিকেশন না থাকলেও ফোন দেখার তীব্র ইচ্ছা।
এই লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিতে পারে যে স্নায়ুতন্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমাগত উদ্দীপনা এবং মনোযোগের চাহিদা সামলাতে ব্যস্ত থাকছে।
বিশ্রাম সবসময় আরামদায়ক হয় না
অনেকের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস কাজ এবং অবসর উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মস্তিষ্ক সারাদিন ধরে অবিরাম তথ্য পেতে থাকলে এটি পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুনরুদ্ধার করার সুযোগ কম পায়। এটি ঘুমের গুণমান, মনোযোগ এবং সার্বিক মানসিক সতেজতাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও বিশ্রামকে আরামদায়ক মনে হয় না।
ভারসাম্য রক্ষা করুন
প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা নয়, বরং এমনভাবে এটি ব্যবহার করুন যা প্রোডাক্টিভিটি এবং সুস্থতা উভয়কেই সহায়তা করে। মনোযোগী কাজ বা পড়াশোনার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন সাইলেন্ট করে রাখুন। দিনের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য এমন সময়সূচী তৈরি করুন যেখানে ডিজিটাল মাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকবেন। ভালো ঘুমের জন্য ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখুন। নিয়মিত স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো রিলাক্সেশন কৌশল অনুশীলন করুন।
এইচএন
