এএমএইচ (AMH) বা অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোন ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান নির্দেশক। এটি ডাক্তারদের বুঝতে সাহায্য করে যে ডিম্বাশয়ে কতগুলো ডিম্বাণু অবশিষ্ট থাকতে পারে এবং শরীর ফার্টিলিটি চিকিৎসায় শরীর কীভাবে সাড়া দিতে পারে। এএমএইচ-এর মাত্রা কম থাকলে অনেক নারীই একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন- খাবার কি এএমএইচ বাড়াতে পারে? এর উত্তর হলো, না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার ডিম্বাশয়ের বার্ধক্যকে প্রতিহত করতে বা ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর সংখ্যা বাড়াতে পারে না। তবে খাদ্যতালিকা ডিম্বাণু বিকাশের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। যেসব নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন বা আইভিএফ-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এএমএইচ-এর মাত্রা কম থাকা মানে শুধু রিপোর্টের একটি সংখ্যা নয়। ডিম্বাণুর গুণমান, প্রদাহ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, ভিটামিনের মাত্রা এবং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যও ফার্টিলিটির ফলাফলে ভূমিকা রাখে। এখানেই খাদ্যতালিকা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, ফার্টিলিটি বাড়ানোর জন্য শাক-সবজি, ফল, ডাল, শস্যদানা, বাদাম, বীজ, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি জাতীয় খাবারের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। এই খাদ্যাভ্যাস প্রদাহ কমাতে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব সীমিত করতে সাহায্য করে। AMH-এর মাত্রা কম থাকলে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা সাধারণত যে পাঁচটি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন, তা নিচে দেওয়া হলো।
১. ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ করুন
যাদের ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কম, সেইসব নারীদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব একটি সাধারণ সমস্যা। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই অভাব শনাক্ত করা যায়। ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মতো উৎসগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, তবে সাপ্লিমেন্ট শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই গ্রহণ করা উচিত।
২. CoQ10 সহায়ক খাবার গ্রহণ করুন
কোএনজাইম Q10 মাইটোকন্ড্রিয়াল কার্যকারিতাকে সহায়তা করে, যা ডিম্বাণুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের উচ্চ কোষীয় শক্তির প্রয়োজন হয়। CoQ10 তৈলাক্ত মাছ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস এবং শস্যদানার মতো খাবারে পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা IVF চক্রের আগেও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন।
৩. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্তর্ভুক্ত করুন
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে। এর ভালো উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈলাক্ত মাছ, আখরোট, তিসি এবং চিয়া সিড। এগুলো খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন হতে পারে, বিশেষ করে যখন খাবারের সামগ্রিক মান খারাপ থাকে।
৪. আয়রন এবং ফোলেটের মাত্রা পরীক্ষা করুন
আয়রন এবং ফোলেট কোষ বিভাজন, রক্তের স্বাস্থ্য এবং প্রজনন কার্যকারিতাকে সহায়তা করে। প্রজননক্ষম বয়সের অনেক নারীর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই এর মাত্রা কম থাকতে পারে। নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট শুরু করার পরিবর্তে, ব্লাড প্যানেলের মাধ্যমে মাত্রা পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো।
৫. পরিশোধিত চিনি এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিন
পরিশোধিত চিনি, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং প্রদাহ আরও বাড়তে পারে। ইনসুলিনের স্থিতিশীল মাত্রা উন্নত হরমোন কার্যকারিতাকে সহায়তা করে, যা বিশেষ করে ফার্টিলিটি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যাভ্যাস নিজে থেকে এএমএইচ (AMH) পরিবর্তন করতে পারে না, তবে এটি ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য, হরমোনের ভারসাম্য এবং বিপাকীয় সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন এএমএইচ-এর মাত্রা কম থাকে, তখন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এই পুষ্টিগত সংশোধনের সাথে সময়মতো ডাক্তারি মূল্যায়ন এবং রোগীর বয়স, রিপোর্ট ও ফার্টিলিটির লক্ষ্য অনুযায়ী একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
এইচএন
