মেনোপজের কারণে বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন আসে, যার মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত পিরিয়ড, হট ফ্ল্যাশ এবং যোনিপথের শুষ্কতা। যেহেতু মধ্যবয়সে এই পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক, তাই নারীরা অজান্তেই এমন কিছু লক্ষণ উপেক্ষা করতে পারেন যা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের জন্য মেনোপজের স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য সতর্কীকরণ চিহ্নের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অপরিহার্য। চিকিৎসকদের মতে, নারীদের বিশেষ করে যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, তাদের সতর্ক থাকা উচিত এবং লক্ষণগুলো অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যোনিপথে রক্তপাত
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত, বিশেষ করে মেনোপজের পরে যেকোনো ধরনের রক্তপাত। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হালকা রক্তপাতকেও স্বাভাবিক বলে মনে করা উচিত নয়। মেনোপজের কাছাকাছি থাকা নারীরা অনিয়মিত বা অস্বাভাবিকভাবে ভারী মাসিকও লক্ষ্য করতে পারেন, যা স্বাভাবিক চক্র থেকে ভিন্ন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ইরানিয়ান জার্নাল অফ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি রিসার্চ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কোনো নারীর টানা ১২ মাস মাসিক না হলে, যোনিপথে যেকোনো ধরনের রক্তপাত, তা সামান্য হোক বা ভারী প্রবাহ, একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
যোনি স্রাব
আরেকটি লক্ষণ হলো জলীয় বা রক্ত মিশ্রিত যোনি স্রাব। যদিও হরমোনের পরিবর্তন যোনি নিঃসরণে পরিবর্তন আনতে পারে, তবে ক্রমাগত স্রাব, বিশেষ করে যদি দুর্গন্ধযুক্ত হয় বা রক্তের সাথে মিশ্রিত থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা উচিত। সংক্রমণের কোনো লক্ষণ ছাড়াই স্বচ্ছ, গোলাপি, বাদামি বা রক্ত মিশ্রিত স্রাব উপেক্ষা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে।
শ্রোণীতে ব্যথা
শ্রোণীতে ব্যথা বা ক্রমাগত খিঁচুনি আরেকটি সতর্কতামূলক লক্ষণ যা মাসিকের ব্যথা বা মেনোপজের সাথে সম্পর্কিত অস্বস্তির মতো হতে পারে। তলপেটে অস্বস্তি বা পেলভিক চাপও হতে পারে। যদিও অনেক মহিলাই পেলভিক অস্বস্তিকে মেনোপজ, ফাইব্রয়েড বা হজমের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করেন, তবে ক্রমাগত ব্যথা বা পেট ভরা অনুভূতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বেদনাদায়ক সহবাস
কিছু নারী সহবাসের সময়ও ব্যথা অনুভব করেন। যদিও মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে যোনি শুষ্কতা একটি সাধারণ বিষয়, তবে রক্তপাত বা স্রাবের সাথে ক্রমাগত ব্যথা জরায়ুর কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
মূত্রাশয় বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব বা পেলভিক অস্বস্তির সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। যদিও এই লক্ষণগুলো এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের জন্য নির্দিষ্ট নয়, তবে এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও পরীক্ষা করানো উচিত। রোগ বাড়ার সাথে সাথে ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি বা ওজন হ্রাস দেখা দিতে পারে। যদিও মেনোপজের সময় ক্লান্তি স্বাভাবিক হতে পারে, তবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া ক্রমাগত অবসাদকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এইচএন
