মা হওয়ার যাত্রা মোটেও সহজ কিছু নয়। সন্তান গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে তার জন্ম পর্যন্ত একজন হবু মাকে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। তেমনই একটি সমস্যা হলো স্পটিং বা হালকা রক্তপাত। গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাত বা যোনিপথে রক্তক্ষরণ হলে তা গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের কারণ হতে পারে। তবে, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে এটি আসলে একটি সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে। এটি সবসময় কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত নাও দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ কি সাধারণ ঘটনা?
গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ তুলনামূলকভাবে সাধারণ, বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে, এবং এটি সবসময় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয় না। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, স্পটিং বলতে যোনিপথে হালকা রক্তপাত বা গোলাপী, লাল বা বাদামী রঙের কয়েক ফোঁটা রক্তকে বোঝায়। যদিও রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেক নারীরই সুস্থ গর্ভাবস্থা থাকে, তবুও অন্তর্নিহিত কোনো জটিলতা আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য গর্ভাবস্থায় যেকোনো রক্তপাত একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে, স্পটিং বা হালকা রক্তপাতের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং, যা নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণে সংযুক্ত হলে ঘটতে পারে। এটি সাধারণত গর্ভধারণের ১০-১৪ দিন পরে ঘটে এবং এটি সাধারণত হালকা হয়, যা এক বা দুই দিন স্থায়ী হয়। হরমোনের পরিবর্তন বা জরায়ুমুখে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির কারণেও স্পটিং হতে পারে। গর্ভাবস্থায়, জরায়ুমুখ আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, তাই যৌন মিলন, পেলভিক পরীক্ষা বা এমনকি কঠোর ব্যায়ামের মতো কার্যকলাপের কারণেও কখনও কখনও হালকা স্পটিং হতে পারে।
কখন আপনার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে স্পটিং কম দেখা যায় এবং এটিকে কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটি জরায়ুমুখের পরিবর্তন, সংক্রমণ, জরায়ুমুখের পলিপ বা প্রদাহের কারণে হতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে রক্তপাত প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টাল অ্যাব্রাপশন বা অকাল প্রসবের মতো আরও গুরুতর সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। কারণ শনাক্ত করতে এবং মা ও শিশু উভয়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে দ্রুত চিকিৎসাগত মূল্যায়ন অপরিহার্য।
সামান্য রক্তপাত এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের মধ্যে পার্থক্য করাও গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য রক্তপাতে সাধারণত কয়েক ফোঁটা রক্ত দেখা যায় যা স্যানিটারি প্যাড ভেজায় না। অতিরিক্ত রক্তপাত, বিশেষ করে যদি এর সাথে তীব্র পেটে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাথা ঘোরা, জ্বর থাকে বা জমাট বাঁধা রক্ত বা টিস্যু বের হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। এই ধরনের লক্ষণগুলো গর্ভপাত, একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত অন্য কোনো জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন
গর্ভাবস্থায় যদি আপনি সামান্য রক্তপাত লক্ষ্য করেন, তবে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা বা শুধুমাত্র ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর করা থেকে বিরত থাকুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার প্রসূতি বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। কারণ নির্ণয়ের জন্য আপনার ডাক্তার আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা বা শারীরিক পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত, রক্তপাত চলতে থাকলে সাধারণত কঠোর শারীরিক কার্যকলাপ, যৌন মিলন এবং যোনিতে কিছু প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এইচএন
