প্রথমবার গর্ভধারণ করার যাত্রাটা বেশ কঠিন হতে পারে। কী খাবেন, সেই বিষয়ে অনেক পরস্পরবিরোধী পরামর্শ পাওয়া যায়। ভালো দিকটি হলো, গর্ভধারণকে সুস্থ রাখতে কোনো জটিল খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন নেই। এটি বেশি খাওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং বুদ্ধি করে খাওয়ার প্রশ্ন। প্রথম গর্ভধারণে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের জন্য পরিমাণের চেয়ে গুণমানের উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। প্রতিটি খাবারে প্রোটিন, শস্যদানা, ফল, শাক-সবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং দুগ্ধজাত খাবারের সংমিশ্রণ থাকা উচিত।
প্রোটিনের উৎস: ডিম, ডাল, শিম, পনির, চর্বিহীন মাংস, কম পারদযুক্ত মাছ, দই, কারণ শিশুর বৃদ্ধি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শস্যদানা: শক্তির জন্য ওটস, মিলেট, ব্রাউন রাইস এবং হোল হুইট। এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখলে গর্ভকালীন ক্লান্তি অনেকটাই দূর হবে।
ফল ও শাক-সবজি: রঙিন ফল ও শাক-সবজি যা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ মাত্রায় আয়রন, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, আয়োডিন এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটযুক্ত খাবারও গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং ডাক্তারের অন্য কোনো নির্দেশনা না থাকলে দিনে প্রায় ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। প্রসবপূর্ব সাপ্লিমেন্টের জন্য সর্বদা ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলুন, কারণ শুধুমাত্র খাবার থেকে সমস্ত পুষ্টি পাওয়া যায় না।
ইউনিসেফের মতে, গর্ভবতী মহিলাদের প্রথম ত্রৈমাসিকে অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন হয় না, তবে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রতিদিন প্রায় ৩৪০ এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৪৫০ ক্যালোরি বেশি প্রয়োজন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশুর হাড়ের জন্য ভিটামিন ডি, লোহিত রক্তকণিকার জন্য ভিটামিন বি৬, স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য ভিটামিন বি১২ এবং মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্যকারী ফলিক অ্যাসিড। নিরামিষাশী এবং ভেগানদের আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং বি১২ গ্রহণের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া উচিত।
এইচএন
