আমাদেরকে ক্রমাগত বেশি করে পানি পান করতে বলা হয় এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে, কারণ শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি। তবে অনেকেই ভাবতেও পারেন না যে পানি পানও কখনো কখনো অতিরিক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে!। পানির মতো নিরীহ একটি জিনিসও অতিরিক্ত ব্যবহারে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি বিরল হলেও অস্বাভাবিক নয়। তাহলে অতিরিক্ত পানি পান করলে কী হয়, এবং আপনি কীভাবে বুঝবেন যে কতটা পান করতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে খুব বেশি পানি পান করা বা শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পানি ক্রমাগত পান করা ক্ষতিকর হতে পারে।
মূল সমস্যাটি সোডিয়ামের সাথে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত পানি পানের ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কমে যেতে পারে, যাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশনও বলা হয়। স্ট্যাটপার্লস (StatPearls) অনুসারে, এই অবস্থাটি হাসপাতালে দেখা যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, যা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ২০% থেকে ৩৫%-কে প্রভাবিত করে। এটি তখন ঘটে যখন শরীর সোডিয়ামের তুলনায় খুব বেশি পানি ধরে রাখে, যার ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়। এর সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, বমি, ডায়রিয়া এবং হৃদরোগ বা লিভারের রোগের মতো সমস্যা।
শরীরের কোষের ভেতরে এবং বাইরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সোডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। যদি সোডিয়ামের ঘনত্ব কম হয়, তাহলে পানি কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করবে, যার ফলে কোষগুলো ফুলে উঠবে। মস্তিষ্কে ঘটলে এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
অতিরিক্ত পানি পান করলে কী হয়?
লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে, যা প্রথমে হালকাভাবে শুরু হয় এবং অতিরিক্ত পানিপান চলতে থাকলে তা আরও বাড়তে পারে। কিছু প্রাথমিক সতর্কীকরণ লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে:
* বমি বমি ভাব
* মাথাব্যথা
* পেট ফাঁপা
* অস্বাভাবিক ক্লান্তি
* ঘন ঘন প্রস্রাব
* বিভ্রান্তি।
যদি এটি আরও বাড়ে, তবে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে যা হতে পারে:
* বমি
* পেশিতে খিঁচুনি
* কথা বলতে অসুবিধা
* খিঁচুনি
* অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
বিরল ক্ষেত্রে এটি এমনকী জীবন-হুমকিও হতে পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ দৈনন্দিন জীবনে এটি সত্যিই খুব বিরল, কিন্তু এটা জানা জরুরি যে এই লক্ষণগুলো সত্যি হতে পারে এবং এগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এইচএন
