মাংস প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, যা ফিটনেস সচেতন ব্যক্তিদের কাছে একটি পছন্দের খাবার। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়, কারণ এটি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার এমনই একটি নেতিবাচক দিক হলো ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি। এর কারণ হলো মাংসে পিউরিন থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করা হয়।
ইউরিক অ্যাসিড এমন একটি পদার্থ যা শরীর মল ভাঙার সময় তৈরি করে। যদিও শরীর নিজে থেকেই পিউরিন তৈরি করে, কিছু খাদ্যদ্রব্য, বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের মাংস, পিউরিন সরবরাহে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে।
তাহলে মাংস কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে? একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে যে, শুধু মাংস খেলেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়বে না, বরং অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই গেঁটেবাত বা কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন।
যেসব মাংসে উচ্চ মাত্রায় পিউরিন থাকে বলে জানা যায়, সেগুলো হলো গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস এবং কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গ, যেমন যকৃৎ ও বৃক্ক। নিয়মিত এই ধরনের খাবার গ্রহণ করলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি, শেলফিশ এবং ম্যাকেরেলসহ কিছু মাছ হলো পিউরিন-সমৃদ্ধ খাবারের অন্যান্য উদাহরণ, যদিও চর্বিহীন মুরগির মাংসে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা কম।
ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির অন্যান্য কারণসমূহ
খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণ ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রাকে প্রভাবিত করে। যেমন:
* জিনগত কারণ
* স্থূলতা
* পানিশূন্যতা
* মদপান
* মিষ্টি পানীয়
* বৃক্কের রোগ
* কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ।
মাংস থেকে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি রোধের উপায়মাংস খাওয়া সামগ্রিক চিত্রের একটি অংশ মাত্র। গেঁটেবাত বা গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের খাদ্যতালিকা থেকে মাংস পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে তাদের মনে রাখতে হবে যে পরিমিতিবোধই মূল। ইউরিক অ্যাসিড প্রতিরোধ করতে যা করতে পারেন-
* চর্বিহীন মাংস বেছে নিন।
* পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
* স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
আপনার খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফল, শাক-সবজি, শস্যদানা এবং চর্বিহীন দুগ্ধজাত খাবার যোগ করুন।
এইচএন
