বিজ্ঞাপন

ডিম খাওয়ার সেরা পদ্ধতি কোনটি?

ডিম খাওয়ার সেরা পদ্ধতি কোনটি?

অনেকেই ডিম দিয়ে দিন শুরু করতে পছন্দ করেন। কেউ সেদ্ধ ডিম পছন্দ করেন, আবার কেউ অমলেট। এমন কিছু ফিটনেস উৎসাহী আছেন যারা কাঁচা ডিমও খেতে পছন্দ করেন। একটি প্রশ্ন প্রায়শই করা হয়, ডিম খাওয়ার সেরা পদ্ধতি কোনটি? কাঁচা, সেদ্ধ নাকি রান্না করা?

উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হলো ডিম, যা কাঁচা, সেদ্ধ বা ভাজা- যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, প্রতিটি ডিম থেকে প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই সমস্ত রান্নার পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য হলো, অতিরিক্ত চর্বি এবং ক্যালোরির সঙ্গে কেবল প্রোটিনের শোষণ ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পদ্ধতি আপনাকে ডিম থেকে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন পেতে সাহায্য করে।

কাঁচা ডিম

যদিও কাঁচা ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ একই থাকে, তবে শরীর তা অর্ধেক পরিমাণে শোষণ করে, কারণ প্রোটিনগুলো তখনও এমন একটি রূপে থাকে যা হজম করা কঠিন। এছাড়াও কাঁচা ডিম সালমোনেলা সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

সেদ্ধ ডিম

সেদ্ধ করাকে অন্যতম স্বাস্থ্যকর রান্নার প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাপে প্রোটিন ভেঙে যায়; ফলে, শরীরের পক্ষে তা হজম করা এবং প্রায় ৯০% প্রোটিন ব্যবহার করা সহজ হয়ে যায়। যেহেতু কোনো তেল বা মাখন যোগ করার প্রয়োজন হয় না, তাই ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে এবং একারণে ওজন কমানোর জন্য সেদ্ধ ডিম স্বাস্থ্যকর।

ভাজা ডিম

ভাজা ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ সেদ্ধ ডিমের মতোই কম-বেশি একই থাকে, কারণ রান্না করলে প্রোটিন সহজে হজমযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে যেহেতু ডিম মাখন এবং তেলে ভাজা হয়, তাই এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে, বিশেষ করে যখন অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট যোগ করা হয়।

সাধারণত সেদ্ধ এবং আংশিকভাবে রান্না করা ডিম প্রোটিনের হজমযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং পুষ্টিগুণের সর্বোত্তম ভারসাম্য প্রদান করে, যেখানে কাঁচা ডিম সবচেয়ে কম সুবিধাজনক, যদিও সেগুলোর গঠনে একই প্রোটিন থাকে।

ডিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

২০২২ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ডিমের প্রোটিন গ্রহণের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিম শুধুমাত্র খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরলের উৎস নয়। গবেষকরা এই বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছেন যে, ডিম অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য প্রোটিনের একটি উৎস, যাতে আমাদের শরীরের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।

ডিমের প্রোটিন পুরোপুরি সুষম। এটি মারাত্মক প্রোটিনের অভাব প্রতিরোধ করে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যকর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কঙ্কাল পেশী গঠনে এবং বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত পেশীর স্বাভাবিক ক্ষয় (সারকোপেনিয়া) রোধ করতে ডিমের প্রোটিন খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এইচএন