স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আসলে জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। এটি অনেক সময় আমাদের সফলতার পথে থাকতেও সাহায্য করে। তবে আপনি যদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন, সেক্ষেত্রে এটি আপনার জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এই এক স্ট্রেসের কারণেই প্রতিদিন অসংখ্য সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, সবকিছু থাকার পরেও একা হয়ে যান অনেকে। কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যাও।
প্রত্যেকেরই বিভিন্ন স্ট্রেস ট্রিগার রয়েছে। জরিপ অনুসারে, তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাজের চাপ। মার্কিন কর্মীদের মধ্যে চল্লিশ শতাংশ অফিসের চাপের সম্মুখীন হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং এক-চতুর্থাংশ বলে যে কাজ তাদের জীবনে চাপের সবচেয়ে বড় উৎস। কাজের চাপের কারণ হিসেবে রয়েছে-
* নিজের কাজে খুশি না থাকা।
* ভারী কাজের চাপ বা অত্যধিক দায়িত্ব থাকা।
* দীর্ঘ সময় কাজ করা
* দুর্বল ব্যবস্থাপনা, কাজের অস্পষ্ট প্রত্যাশা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক না থাকা
* বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করা
* অগ্রগতির সুযোগ না থাকা
* কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বা হয়রানির সম্মুখীন হওয়া
এছাড়াও জীবনের কিছু বিষয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন
* প্রিয়জনের মৃত্যু
* সন্তানের জন্ম
* ডিভোর্স
* চাকরি হারানো
* আর্থিক বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি
* বিয়ে
* নতুন বাড়িতে চলে যাওয়া
* দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা আঘাত
* মানসিক সমস্যা (বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ, অপরাধবোধ, কম আত্মসম্মান)
আঘাতমূলক ঘটনা, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চুরি, ধর্ষণ বা আপনার বা প্রিয়জনের বিরুদ্ধে সহিংসতা কখনও কখনও চাপ বাইরের পরিবর্তে ভেতরে থেকে আসে। আপনি কেবল সেগুলো নিয়ে চিন্তা করে নিজেকে চাপে ফেলে দিতে পারেন। এই সমস্ত কারণ স্ট্রেস হতে পারে-
ভয় এবং অনিশ্চয়তা
নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলা, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের হুমকি সম্পর্কে সংবাদ শুনলে তা আপনার স্ট্রেস বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে কারণ আপনি মনে করেন যে এই ঘটনাগুলোর ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এছাড়াও আর্থিক সংকট আপনাকে স্ট্রেস বাড়িয়ে তুলতে পারে। মাসশেষে সমস্ত বিল পরিশোধের চাপ, মা-বাবার চিকিৎসার ব্যায়ভার, এমন অনেককিছুই আপনার স্ট্রেস বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।
অবাস্তব প্রত্যাশা
কেউই নিখুঁত নয়। আপনি যদি সব সময় সবকিছু ঠিকঠাক করার আশা করেন, তবে যখন জিনিসগুলো আশানুরূপ না হয় তখন আপনি চাপ অনুভব করবেন। তাই ভালোর পাশাপাশি মন্দকেও গ্রহণ করতে শিখুন। সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতাকেও।
পরিবর্তন
জীবনের যেকোনো বড় পরিবর্তন চাপের হতে পারে। এমনকী বিয়ে বা চাকরির পদোন্নতির মতো সুখকর ঘটনাও। আরও অপ্রীতিকর ঘটনা, যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, বড় আর্থিক ধাক্কা বা পরিবারের কারও মৃত্যু মানসিক চাপের উৎস হতে পারে।
আপনার ব্যক্তিত্ব ও সহ্যক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, আপনি কতটা সামলে নিতে পারবেন। সবাই সমান স্ট্রেসের মুখোমুখি হয় না। কেউ কেউ এই মানসিক চাপকে সামলেও পথ চলতে পারেন। কারণ তারা অনুভব করতে পারেন যে, এসবই জীবনের অংশ। কিন্তু অনেকে আবার সামান্য চাপেও ভেঙে পড়েন। নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ মনে করতে থাকেন।
এইচএন
