বিজ্ঞাপন

দুই সন্তানের সারাক্ষণ মারামারি? সম্পর্ক ভালো রাখতে অভিভাবকের ৬ করণীয়

দুই সন্তানের সারাক্ষণ মারামারি? সম্পর্ক ভালো রাখতে অভিভাবকের ৬ করণীয়

আপনার ঘরেও কি দুই বা ততোধিক সন্তান সারাক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মারামারি আর ঝগড়া নিয়ে মেতে থাকে? কীভাবে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করবেন, তা নিয়ে কি আপনার চিন্তার অন্ত নেই? সন্তান পালন নেহাত ছেলেখেলা নয়। কত দিক মাথায় রেখে যে মা-বাবাকে সন্তান বড় করতে হয়, তা গুনে শেষ করা যায় না।

বিশেষত একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক একসময় অভিভাবকের জন্য মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময়েই দেখা যায়, বড় সন্তানটি ছোটটির প্রতি হিংসাত্মক আচরণ করে। কখনো আবার ছোটজন মনে করে, বাবা-মায়ের আদরের সবটুকু অধিকারী কেবল সে একাই।

মনোবিদরা বলছেন, ভাই-বোনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোর করে তৈরি করা যায় না। সন্তানকে অহেতুক বকাবকির বদলে অভিভাবকদেরই নিজেদের দৈনন্দিন অভ্যাসে এমন কিছু আচরণ যুক্ত করে নিতে হবে, যা পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে বদলাতে সাহায্য করবে।

সন্তানদের সম্পর্ক ভালো রাখতে অভিভাবকদের করণীয়

তুলনা করবেন না : এক সন্তানকে অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। প্রতিটি শিশুর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বড় ভাই বা বোনের মতো হতেই হবে– এই ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়ার বদলে, তার নিজের কথা বলেই তাকে ভালো কোনো কাজে উৎসাহিত করুন। একইভাবে বড়জনকেও ছোটটির সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে জেদ অথবা হীনম্মন্যতা– এই দুইয়ের কোনোটি শিশুমনে গেঁথে যেতে পারে।

আলাদা করে সময় দিন : সারা দিনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, প্রত্যেক সন্তানকে আলাদা করে সময় দিন। এতে তারা বুঝবে, বাবা-মায়ের কাছে তাদের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত কিছু ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছে হলে, সেই সুযোগও সে পাবে।

তাৎক্ষণিক পক্ষ নেবেন না : ভাই-বোনের ঝগড়ায় সঙ্গে সঙ্গে কোনো এক পক্ষ বেছে নেবেন না। কে ঠিক, কে ভুল– সেটা বোঝার জন্য দুজনের কথাই শুনুন। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটাতে শেখান তাদের। তবে গুরুতর সমস্যা হলেও যে পক্ষ নেবেন না।

একজনের সামনে অন্যকে অপমান নয় : একজনের সামনে অন্যজনকে অপমান করবেন না। ভুল করলে বকা বা শাসন করার দরকার হতে পারে, কিন্তু একজনের সামনে কারণে-অকারণে অন্যকে ছোট করলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।

সাহায্য করতে উৎসাহ দিন : একে অপরকে সাহায্য করতে উৎসাহ দিন। ছোটখাটো কাজে ভাই-বোনকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শেখান। এতে সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

একসঙ্গে সময় কাটানো : খেলাধুলা, গল্প বলা, রান্নায় সাহায্য করা, সিনেমা দেখা বা সপরিবার বেড়াতে যাওয়া– চেষ্টা করুন সন্তানদের একসঙ্গে এমন সব অভিজ্ঞতায় শামিল করতে, যাতে ছোটবেলার কথা ভাবলে একরাশ সুন্দর স্মৃতি মনে পড়ে তাদের। এমন সব অভিজ্ঞতা, যেখানে ভাই বা বোনটিও তাদের সঙ্গে রয়েছে।

বাবা-মা যদি বাড়িতে ভালোবাসার চর্চা করেন এবং প্রত্যেক সন্তানকে সমান গুরুত্ব দেন, তবে সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই দৃঢ় হয়ে ওঠে।

বিআরইউ

বিজ্ঞাপন