এই সময়ে ফুড পয়জনিং খুবই পরিচিত একটি সমস্যা, কারণ এই সময়ে উচ্চ আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীবের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যার ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে আমাদের হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে। সারা বছরই খাদ্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই স্যাঁতস্যাঁতে দিনগুলোতে কিছু খাবারকে বিশেষভাবে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে, এই খাবারগুলো হয় সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা অথবা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
১. যেকোনো ধরনের কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাংস
ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (US Centers for Disease Control and Prevention) অনুসারে, মুরগি, টার্কি এবং গরুর মাংস ভালোভাবে রান্না না করা হলে এতে সালমোনেলা এবং ই. কোলাই-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
২. কাঁচা ডিম
কাঁচা বা আধসেদ্ধ ডিম দিয়ে তৈরি খাবার, যেমন ঘরে তৈরি মেয়োনিজ এবং কিছু মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. সামুদ্রিক খাবার এবং শেলফিশ
খাদ্য সুরক্ষার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে কাঁচা মাছ, সুশি এবং শেলফিশে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা টক্সিন থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলি দূষিত পানি থেকে সংগ্রহ করা হয়।
৪. অপাস্তুরিত দুধ এবং পনির
সিডিসি (CDC) বলেছে যে কাঁচা দুধ এবং অপাস্তুরিত দুধ থেকে তৈরি নরম পনিরে লিস্টেরিয়ার মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
৫. তাজা ফল এবং সবজি
যেসব ফল ধোয়া হয়নি, সেইসঙ্গে পাতাযুক্ত শাক এবং সবজিতে জীবাণু, মাটির দূষক এবং সেচের পানি থেকে আসা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
৬. রান্না করা ভাত এবং পাস্তা
ভাত, নুডলস এবং পাস্তা যা দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হয়, তা ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থলে পরিণত হতে পারে।
৭. ডেলি মিট এবং রেডি-টু-ইট সালাদ
আগে থেকে প্যাকেট করা সালাদ, কোলস্লো, পটেটো সালাদ এবং স্লাইস করা ডেলি মিট সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং নাড়াচাড়া করার সময়ও দূষিত হতে পারে।
বর্ষাকালে ফুড পয়জনিং এড়ানোর উপায়
১. ফল ও সবজি পরিষ্কার করুন
যেকোনো ফল বা সবজি খাওয়া বা রান্না করার আগে, চলমান পানির নিচে সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। খাবার তৈরির আগে, তৈরির সময় এবং তৈরির পরে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়াও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার আগে আরও একবার হাত ধুয়ে নিতে ভুলবেন না।
২. খাবার আলাদা রাখুন
ক্রস-কন্টামিনেশন বা সংক্রমণ এড়াতে, কাঁচা মাংস, পোল্ট্রি, সামুদ্রিক খাবার এবং ডিম যেকোনো রান্না করা বা রেডি-টু-ইট খাবার থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন, কারণ ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া কাঁচা খাবার থেকে রান্নাঘরের বিভিন্ন পৃষ্ঠে এবং অন্যান্য উপাদানে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৩. খাবার রান্না করুন
খাবারটি একটি নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত রান্না করুন, যাতে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। মাংস সঠিকভাবে রান্না হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আপনি নিশ্চিত না হলে, পরীক্ষা করার জন্য একটি ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করুন।
৪. খাবার ঠান্ডা করুন
খাবার দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় বাইরে ফেলে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। পচনশীল খাবার রেফ্রিজারেটরে ৪০° ফারেনহাইট (৪° সেলসিয়াস) বা তার নিচে এবং ফ্রিজার ০° ফারেনহাইট (-১৮° সেলসিয়াস) বা তার নিচে সংরক্ষণ করা উচিত। রান্না করা খাবার তৈরির দুই ঘণ্টার মধ্যে রেফ্রিজারেটরে রাখা সবচেয়ে ভালো।
এইচএন
