বাংলা পঞ্জিকায় ভাদ্র মাস মানেই প্রখর রোদ আর অস্বস্তিকর গরম। গ্রামবাংলায় এই সময়কে বলা হয় ‘তালপাকা রোদের সময়’। অনেকেই এই সময়ে বাইরে বের হন। যদিও আকাশে মেঘ থাকলে ভিন্ন কথা! কিন্তু যখন মেঘ সরে যায়, তখন রোদের তেজ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়; যা আপনার অজান্তে শারীরিকভাবে নানা ক্ষতি করছে।
জানেন কি, রোদে রয়েছে তীব্র অতিবেগুনি রশি (UV)। যা ত্বকের ভেতরে ঢুকে কালো করে দেয়। শুধু তাই নয়, বয়সের ছাপ বাড়ানোসহ শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিও করতে পারে এই রোদ। ভাদ্রের প্রখর রোদে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনে সামান্য সতর্কতা এবং সঠিক পরিচর্যা মেনে চললে ভাদ্রের এই তীব্র রোদেও ত্বককে সতেজ ও শরীরকে ঠিক রাখা সম্ভব।
এই তীব্র রোদ কীভাবে ক্ষতি করে?
রোদের আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভিএ) যেমন ত্বকের ভেতরে ঢুকে ত্বক কালো করে, পাশাপাশি এই রোদে থাকা আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি) ভিটামিন-ডি তৈরির কাজ করে। তবে এর অতিরিক্ত হলে সানবার্ন তো ঘটেই, বাড়াতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকিও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যালোক সবচেয়ে তেজি। এই সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; অকাল বার্ধক্য, ত্বকের ক্যানসারও তরান্বিত হতে পারে।
এবার তবে জেনে নেওয়া যাক এমন প্রখর রোদের ক্ষতি থেকে পরিত্রাণের উপায়।
সানস্ক্রিনের সঠিক ব্যবহার
রোদে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে উন্মুক্ত ত্বকে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। বাইরে থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। আবহাওয়া মেঘলা থাকলেও ভাদ্রের ক্ষতিকর রশি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
পোশাক ও আনুষঙ্গিক প্রতিরক্ষা
গরমের সময় বাইরে বের হলে যতটা সম্ভব সুতি ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। তবে রোদ থেকে বাঁচতে হলে একেবারে পাতলা কিংবা ঢিলেঢালা পোশাক কার্যকরী নয়। বাইরে বের হওয়ার সময় সাথে ছাতা, রোদচশমা (Sunglasses) ও চওড়া হ্যাট ব্যবহার করলে রোদের সরাসরি আঁচ থেকে মুখ ও চোখ সুরক্ষিত থাকে।
অভ্যন্তরীণ হাইড্রেশন ও খাদ্যাভ্যাস
বাইরের যত্নের পাশাপাশি ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং গরমে বা বেশি ঘাম হলে পানির পরিমাণ বাড়ান। ক্ষেত্র বিশেষে লেবুর শরবত পান করা উচিত। ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ ফলমূল ও সবজি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে রাখা ভালো।
ডিএ
