বিজ্ঞাপন

শরীরের যে ৭ পরিবর্তন অবহেলা করবেন না

শরীরের যে ৭ পরিবর্তন অবহেলা করবেন না

বুকে ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি বা বাকশক্তি হারানো কিংবা পেটে তীব্র ব্যথার জন্য অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু আরও সূক্ষ্ম উপসর্গগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে? কখন চিকিৎসা নিতে হবে তা বোঝা কঠিন হতে পারে। এখানে এমন ৭টি উপসর্গের একটি তালিকা দেওয়া হলো যেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

১. কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া

চেষ্টা না করেই ওজন কমে যাওয়া কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অতি সক্রিয় থাইরয়েড (হাইপারথাইরয়েডিজম), ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা, লিভারের রোগ, ক্যান্সার অথবা এমন কোনো রোগ যা আপনার শরীরে পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করে (ম্যালঅ্যাবসর্পশন ডিসঅর্ডার)। যদি গত ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আপনার শরীরের ওজনের ৫%-এর বেশি কমে গিয়ে থাকে, তবে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

২. একটানা বা উচ্চ জ্বর

সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জ্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে হয়। একটানা জ্বরের অর্থ হতে পারে যে আপনার কোনো সংক্রমণ হয়েছে। আপনার যদি জ্বর এবং কাশি ও ক্লান্তির মতো অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসার পরামর্শের জন্য অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জ্বর মূত্রনালীর সংক্রমণ থেকে শুরু করে যক্ষ্মার মতো আরও অনেক সংক্রামক রোগেরও একটি উপসর্গ হতে পারে। কিছু ওষুধের কারণে জ্বর হতে পারে। আপনার শরীরের তাপমাত্রা ১০৩° ফারেনহাইট (৩৯.৪° সেলসিয়াস) বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

৩. শ্বাসকষ্ট

কঠোর ব্যায়াম, চরম তাপমাত্রা, স্থূলতা এবং উচ্চতা- এই সবকিছুর কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। শ্বাসকষ্ট অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। আপনার যদি কোনো কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হয়, বিশেষ করে যদি তা হঠাৎ শুরু হয় এবং তীব্র হয়, তাহলে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন। শ্বাসকষ্টের কারণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া অথবা ফুসফুসে রক্ত ​​জমাট বাঁধা (পালমোনারি এমবোলিজম)। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের সমস্যা। প্যানিক অ্যাটাকের কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এটি তীব্র উদ্বেগের একটি আকস্মিক পর্ব যা কোনো প্রকৃত বিপদ বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

৪. মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন

মলত্যাগের ক্ষেত্রে যা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়, তা ব্যক্তিভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার মলত্যাগের অভ্যাসে যদি অস্বাভাবিক বা ব্যাখ্যাতীত কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

* রক্তাক্ত, কালো বা আলকাতরার মতো রঙের মল
* ক্রমাগত ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
* পেটে এমন ব্যথা যা সহজে দূর হয় না।

মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যেমন ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর বা সালমোনেলা সংক্রমণ অথবা ভাইরাস বা পরজীবী সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ এবং কোলন ক্যান্সার।

৫. বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

হঠাৎ নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

* দুর্বল চিন্তাভাবনা
* মনোযোগ দিতে বা মনোনিবেশ করতে অসুবিধা
* আচরণগত পরিবর্তন।

এই পরিবর্তনগুলো সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা ওষুধের মতো বিভিন্ন সমস্যার কারণে হতে পারে।

৬. খুব অল্প খাওয়ার পরেই পেট ভরে যাওয়া

যদি আপনার সাধারণত খুব তাড়াতাড়ি বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাওয়ার পরেই পেট ভরে যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করান। আপনার এই অনুভূতি, যা আর্লি স্যাটাইটি বা অল্পতেই পেট ভরে যাওয়া নামে পরিচিত, তার সাথেসঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও থাকতে পারে। অল্পতেই পেট ভরে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) এবং পেপটিক আলসার। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যান্সারের মতো আরও গুরুতর কোনো সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

৭. আলোর ঝলকানি

উজ্জ্বল দাগ বা আলোর ঝলকানি কখনও কখনও মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, হঠাৎ আলোর ঝলকানি একটি গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে, যেখানে চোখের পেছনের টিস্যুর একটি পাতলা স্তর তার স্থান থেকে সরে যায় (রেটিনাল ডিটাচমেন্ট)। অবিলম্বে চিকিৎসা গ্রহণ করলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধ করা সম্ভব।

এইচএন