বিজ্ঞাপন

রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না? এভাবে চেষ্টা করুন

রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না? এভাবে চেষ্টা করুন

খুব ছোট ছোট কারণেই কি আপনার রাগ মাথায় চড়ে যায়? আর একবার রাগ উঠে গেলে তা আর কমতেই চায় না? আসলে আপনি একা নন, এমন সমস্যা আরও অনেকেরই রয়েছে। রাগ আমাদের স্বভাবের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণ করতে জানাও জরুরি। রাগকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত রাগ আপনার স্বাস্থ্য এবং সম্পর্ক উভয়ের উপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রস্তুত? এই ১০টি পরামর্শ বিবেচনা করে শুরু করুন-

১. কথা বলার আগে ভাবুন

উত্তেজিত মুহূর্তে এমন কিছু বলে ফেলা সহজ যা নিয়ে আপনি পরে অনুশোচনা করবেন। কিছু বলার আগে নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিতে কয়েক মুহূর্ত সময় নিন। পরিস্থিতিতে জড়িত অন্যদেরও একই কাজ করার সুযোগ দিন।

২. শান্ত হলে আপনার উদ্বেগ প্রকাশ করুন

পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারলে আপনার হতাশা দৃঢ় কিন্তু আক্রমণাত্মক নয় এমনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। অন্যদের আঘাত না করে বা তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে আপনার উদ্বেগ এবং প্রয়োজনগুলো স্পষ্টভাবে ও সরাসরি বলুন।

৩. কিছু ব্যায়াম করুন

শারীরিক কার্যকলাপ সেই মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে যা আপনাকে রাগান্বিত করে তোলে। যদি আপনার মনে হয় রাগ বাড়ছে, তাহলে দ্রুত হাঁটুন বা দৌড়ান। অথবা অন্য কোনো আনন্দদায়ক শারীরিক কাজ করে কিছু সময় কাটান।

৪. কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিন

বিরতি শুধু শিশুদের জন্যই নয়। দিনের যে সময়গুলো চাপপূর্ণ থাকে, সেই সময়গুলোতে নিজেকে ছোট ছোট বিরতি দিন। কয়েক মুহূর্তের শান্ত সময় আপনাকে বিরক্ত বা রাগান্বিত না হয়ে সামনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে।

৫. সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করুন

যে কারণে আপনার রাগ হয়েছে, সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, সমস্যাটি সমাধানের জন্য কাজ করুন। আপনার সন্তানের অগোছালো ঘর কি আপনাকে বিরক্ত করে? দরজা বন্ধ করে দিন। আপনার সঙ্গী কি প্রতিদিন রাতে ডিনারে দেরি করে আসে? সন্ধ্যার পরে খাওয়ার সময় নির্ধারণ করুন। অথবা সপ্তাহে কয়েকবার একা খাওয়ার ব্যাপারে একমত হন। এছাড়াও বুঝুন যে কিছু জিনিস আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আপনি কী পরিবর্তন করতে পারেন এবং কী পারেন না, সে সম্পর্কে বাস্তববাদী হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে রাগ কোনো কিছুর সমাধান করবে না এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

৬. আমি দিয়ে বাক্য শুরু করুন

সমালোচনা করা বা দোষারোপ করা কেবল উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে, সমস্যাটি বর্ণনা করতে আমি দিয়ে বাক্য শুরু করুন। শ্রদ্ধাশীল এবং সুনির্দিষ্ট হন। উদাহরণস্বরূপ, তুমি কখনোই বাড়ির কোনো কাজ করো না বলার পরিবর্তে বলুন, তুমি থালাবাসন ধোয়ার কাজে সাহায্য না করে টেবিল ছেড়ে চলে যাওয়ায় আমি বিরক্ত হয়েছি।

৭. মনে ক্ষোভ পুষে রাখবেন না

ক্ষমা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আপনি যদি রাগ এবং অন্যান্য নেতিবাচক অনুভূতিকে ইতিবাচক অনুভূতিগুলোকে ছাপিয়ে যেতে দেন, তাহলে আপনি নিজের তিক্ততা বা অবিচারের অনুভূতিতে ডুবে যেতে পারেন। যে আপনাকে রাগিয়েছে তাকে ক্ষমা করে দিলে তা আপনাদের উভয়কে পরিস্থিতি থেকে শিখতে এবং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।

৮. উত্তেজনা কমাতে হাস্যরস ব্যবহার করুন

হালকা মেজাজে থাকলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে। যে বিষয়গুলো আপনাকে রাগান্বিত করছে সেগুলোর মুখোমুখি হতে হাস্যরস ব্যবহার করুন। তবে বিদ্রূপ এড়িয়ে চলুন। এটি অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। তাই এমনভাবে কথা বলুন যে অপরজন কষ্ট না পায় এবং আপনার রাগও প্রশমিত হয়।

৯. শিথিলতার কৌশল অনুশীলন করুন

মেজাজ বিগড়ে গেলে শিথিলতার কৌশলগুলো কাজে লাগান। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন, একটি আরামদায়ক দৃশ্য কল্পনা করুন, অথবা শান্ত হও-এর মতো কোনো শান্তিদায়ক শব্দ বা বাক্য পুনরাবৃত্তি করুন। গান শুনতে পারেন, ডায়েরি লিখতে পারেন বা কয়েকটি যোগাসন করতে পারেন- যা কিছু আপনাকে আরাম পেতে সাহায্য করে, তাই করুন।

১০. কখন সাহায্য চাইতে হবে তা জানুন

রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা মাঝে মাঝে কঠিন কাজ হতে পারে। যদি আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, আপনাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করে যার জন্য আপনি পরে অনুশোচনা করেন অথবা আপনার আশেপাশের মানুষদের কষ্ট দেয়, তাহলে এই সমস্যা সমাধানের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য চান।

এইচএন

বিজ্ঞাপন