বইমেলায় সিউল আহমেদের ‘সাংবাদিকতায় অদৃশ্য হাত’

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের অস্থির সময়, মাঠের রিপোর্টারদের ঝুঁকি এবং নিউজরুমের "রিমোট বাটন" নির্ভর সিদ্ধান্ত এসব বাস্তবতার আলোকে প্রকাশ হয়েছে সাংবাদিকতায় অদৃশ্য হাত। বইটির লেখক সাংবাদিক ও গবেষক সিউল আহমেদ, প্রকাশ করেছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন।
ভূমিকায় লেখক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট সময়টি বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আলোচিত ছিল। নানা ঘটনার দায়-দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কতটা স্বাধীন ছিল—সে প্রশ্নই বইটির কেন্দ্রবিন্দু। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের রিপোর্টাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেত্রে 'উপরে বসে থাকা' সিদ্ধান্তদাতাদের নির্দেশে কনটেন্ট থামানো, বদলানো বা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে —রাতদিন ভয়, ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রিপোর্টিং; লাইভ দেওয়া সত্ত্বেও ফুটেজের অংশ প্রচার না হওয়া; এমনকি অনলাইন থেকে প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা। লেখক "রিমোট বাটন' উপমা ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা যাদের হাতে, তারাই অনেক সময় সংবাদপ্রবাহের দিক নির্ধারণ করেন। ফলে রিপোর্টারদের পরিশ্রম সত্ত্বেও প্রকাশিত কনটেন্টের পরিধি সীমিত হয়ে পড়ে।
বইটিতে আরও উঠে এসেছে—মাঠে হামলা, সরঞ্জাম নষ্ট হওয়া, সহিংসতার ঝুঁকি এবং মানসিক চাপের কথা। লেখকের পর্যবেক্ষণ, সাধারণ পাঠক অনেক সময় এই অন্তরালের প্রক্রিয়া জানেন না; ফলে সংবাদ পরিবেশনের সীমাবদ্ধতা বোঝাও কঠিন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে।
'সাংবাদিকতায় অদৃশ্য হাত' সমসাময়িক অভিজ্ঞতা-নির্ভর বিশ্লেষণধর্মী বই। সহজ ভাষায় লেখা হলেও বিষয়বস্তু গভীর ও বিতর্ক-উদ্রেককারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিডিয়া স্টাডিজের শিক্ষার্থী ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য এটি প্রাসঙ্গিক পাঠ্য হতে পারে।
বইটিতে ১২ জন গণমাধ্যমকর্মীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ইংরেজি দৈনিক "নিউ এইজ" পত্রিকাটির সম্পাদক নুরুল কবীরের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। এছাড়াও যমুনা টিভি, এখন টিভি, ডিবিসিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ বিভাগের প্রধানদের সাক্ষাৎকারও প্রকাশ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাঠের প্রতিবেদকদের অভিজ্ঞতাও এই বইয়ে উঠে এসেছে।
১৯৭১-এর পর বাংলাদেশে যে সবচেয়ে বড় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিলো অথবা নব্বই'য়ের গণঅভ্যুর্থানের সময় গণমাধ্যম কেমন ছিলো সেই বিষয়ে ব্যাপক কোন তথ্য নেই। তাই তো লেখক সিউল আহমেদ সেই চিন্তা থেকেই এই বইটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানতে পারে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-এ সাংবাদিকতা কেমন ছিল?
বইটি ২০২৬ সালে অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫৩৫ নম্বর স্টল অ্যাডর্ন পাবলিকেশনীতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও রকমারি ডট কম, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন অনলাইন, বাতিঘর, প্রথমাতে অনলাইনে অর্ডার করা যাবে। সিউল আহমেদ বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসাবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।