সৈয়দ মেহেদী হাসানের দুটি কবিতা

Dhaka Post Desk

সৈয়দ মেহেদী হাসান

১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৮ এএম


সৈয়দ মেহেদী হাসানের দুটি কবিতা

তোমার নামে বৃষ্টি এলো

তোমার নামে বৃষ্টি এলো
ঝাপসা তাকাও-
রোদের পাশে জোছনাদের বাড়ি
আমার সুখ খাঁচায় পোষা
দুঃখরা সব ঘুমিয়ে থাকে বুকের আড়াআড়ি।

ধরো- তোমার নামে বৃষ্টি এলো
রাতের মতো গভীর শীতল
আমরা ছিলাম দূরের মাঠে
আমরা ছিলাম শিশুর হাতে
মার্বেল বা বল।

সামরিক এক বিকল ঘোড়া
তোমার কলের পাশে
তোমার চোখে কোন সমুদ্দুর
মুখ লুকিয়ে হাসে?
কার গভীরে দিঘল রাত সাতরে পার হও
আমি শুধু অপেক্ষাতেই-
শোক নিহতের আগে দেখি কাস্তে শানাও।

 

ব্যাধি

সবচেয়ে তুচ্ছ কথাগুলো জমলো দেয়ালে- ধুলোর মতো
নারীদের দোকান চালু হলো ঘরের কাছেই- ছেলে-বুড়ো 
হা করে দ্যাখে স্তুনের ওপর সেফটিপিন লাগানো- মূলত
পুরুষের স্ফীতস্তন নেই। বাজার মন্দা। 
তুচ্ছরা এলো বিভ্রান্তমূলুকে
শ্লোগান দিতে দিতে, বুক খালি করে দিলো পরাশ্রয়ী
নারী-পুরুষেরা সাশ্রয়ী- সিঁকি আধুলি 
দিয়ে কিনে নেওয়া যায় প্রেমবিদ্ধ জিভ-

আমরা চুপচাপ, মানুষমাত্রই সামাজিক জীব
ভিতরে বীভৎস চিৎকার, আর্তনাদ শ্লোগানেরা নাচে
তুমিতো জানো- মানুষের ব্যক্তিগত বলে একটা ব্যাধি আছে।

ক্রাচে ভর দিয়ে স্বাধীনতা
এমন হতে পারে ধারণাও ছিল না
কার আবার কবে ধারণাসমেত ঘুণ কেটেছে?

তবুও ফিরলাম শেষে 
ভয়ানক রাতের ফাঙ্গাসে
নিরবচ্ছিন্ন একা-
সচিবালয়ের পাইথন, অর্থের নেকড়ে
কেউটে কিংবা স্বাস্থ্যের খাদ্যাভ্যাস
পররাষ্ট্রনীতির গোখরায় তুতবিষ;
সমাজপতিদের হুংকারে- নীলবর্ণের আদালত
জনতার মিছিলে তুলে দেওয়া ট্রাক ছুটতে উদ্যত
সংবিধানের দিকে- মানুষগুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে 
বুকেপিঠে- একাকার হয়ে 
আমরাতো শ্লোগান বিক্রি করে
লিখছি মিছিলের ইতিহাস
আমরাতো মিছিল বিক্রি করে দিয়ে
অভ্যুত্থানবিষয়ক জালে টানছি তুঁড়ে-

কালরাতে খেতে পাইনি কিছুই- সত্যি ভবঘুরে
ক্রাচে ভর দিয়ে স্বাধীনতা যখন এলো
কিংবা আততায়ী কোনো-
বিবস্ত্র শতাব্দীর সভ্যতাসমেত
ল্যাংটো দাঁড়িয়েছিলাম তখনো

আমায় একটা চাঁদর দিবে?
তোমার চোখে অমন মেঘ কিসের?
কেমন মিথ্যার জলকপোত
কে ডাকছে পিছনে আবার
হয়তো সুখ নতুবা শোক
রাতের মৃত্যু কিংবা যেকোনো জন্মের পর
একটু আগলে ধরবে- আমার গায়ে খুব জ্বর। 

সৈয়দ মেহেদী হাসান। সাংবাদিকতায় থিতু। গল্প ও কবিতায় বসবাস। ব্লগে লেখালেখিতে আনসার বিডির টার্গেট কিলিংয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আতঙ্কে কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন, তবে দেশের জন্য জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দেশে থেকেই লেখালেখি চালিয়ে যেতে চান। 

জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৯০, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়াতে। মাধ্যমিক বিজ্ঞান, উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক আর উচ্চশিক্ষা ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে; বরিশালে। এখনো বরিশালেই ঘর-গেরস্থ। সম্পাদনা করেছেন ছোটকাগজ অগ্নিযুগ, দৈনিকের সাহিত্যপাতা— সাহিত্যকণ্ঠ। বিবাহিত জীবনে কন্যা সন্তানের জনক। প্রকাশিত কবিতার বই দুটি।

এইচকে

Link copied