বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা : চালক গ্রেপ্তার

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মে ২০২২, ১১:৫৬ এএম


বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা : চালক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বাসে এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত বাস চালক টিপুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) ভোরে কুয়াইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা। তিনি বলেন, বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে চালক ধর্ষণচেষ্টা করে। পরে চালকের হাত থেকে বাঁচতে বাস থেকে লাফ দিয়ে পাঁচ দিন সংজ্ঞাহীন ছিলেন ওই পোশাককর্মী। সুস্থ হয়ে ঐ নারী বুধবার জানিয়েছেন, তাকে ধর্ষণচেষ্টা করেছেন বাস চালক। এরপর বাস চালককে আমরা শনাক্ত করি। পরে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে কুয়াইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভিকটিম পোশাকশ্রমিকের মা বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নোবেল চাকমা আরও বলেন, সকালে অভিযান চালিয়ে বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চালকের সহকারী জনি দাশকে (১৮) সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সময় জনি দাশ বাসটি চালাচ্ছিলেন।

এর আগে বুধবার (২৫ মে) পুলিশ জানিয়েছিল, গত ১৯ মে রাত ৯টার দিকে বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকার সড়ক থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই পোশাককর্মীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চান্দগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। কীভাবে সে ওখানে এসেছিল তা কেউ বলতে পারেননি। এসময় ওই পোশাককর্মীর মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। মঙ্গলবার (২৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ছিলেন। কথা বলতে পারছিলেন না। সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর বুধবার পুলিশ ওই পোশাককর্মীর সঙ্গে কথা বলে। সে কালুরঘাট বিসিক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। বাসা চান্দগাঁও থানা এলাকায়।

ওই পোশাককর্মী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, প্রতিদিনের মতো অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি অফিসের বাসে ওঠেন। বহদ্দারহাট মোড়ে এসে অন্য শ্রমিকদের নামিয়ে দিলেও পেছনের দিকে থাকায় তার নামতে দেরি হয়। এই সুযোগে চালক তাকে না নামিয়ে বাসটি সামনের দিকে চালিয়ে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে চালক বাসের পেছনের দিকে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখনই নারী শ্রমিক চালককে ঘুষি মেরে বাস থেকে লাফ দেন। এরপর হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ঘটনার সময় বাসটি চালিয়েছেন হেলপার। আর মূল চালক দরজার সামনে ছিলেন। 

কেএম/জেডএস

Link copied