শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানতে হবে যেসব নিয়ম

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৩৫

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানতে হবে যেসব নিয়ম

‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালনে প্রস্তুত শহীদ মিনার

‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর সময় স্বাস্থ্যবিধিসহ মানতে হবে বেশকিছু নিয়ম। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি এবং ব্যক্তিপর্যায়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। শহীদ মিনারের সব প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখতে হবে। পাশাপাশি শ্রদ্ধা নিবেদনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এতে আরও বলা হয়, শহীদ মিনার চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কাউট, গার্লস গাইড, স্বেচ্ছাসেবক সদস্য নিয়োজিত করতে হবে। তাদের কাছে হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করতে হবে, যাতে আগত জনসাধারণ হাত জীবাণুমুক্ত করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে পারেন। কেউ মাস্ক না নিয়ে এলে, তাদের মাস্কও সরবরাহ করতে হবে।

আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নানা আয়োজন। এরইমধ্যে দিবসটি উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে যাচ্ছি। করোনার কারণে এবার রাজনৈতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ব্যক্তিপর্যায়ে দুজনের বেশি একসঙ্গে শহীদ মিনারে না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকিও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

একুশ উদযাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিতে মাস্ক পরিধান ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শহীদ মিনারে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শহীদ মিনারের সব প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হবে। মাস্ক এবং হাত ধোয়ার বিষয়গুলো সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি একুশে উদযাপনের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে সমন্বয়কারী, সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়াকে যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীকে সদস্য সচিব করে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এ সমন্বয় কমিটি ছাড়াও বিভিন্ন উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।

একুশে আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিবার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জনসমাগম হতো, আপ্যায়ন হতো। এবার সে ব্যবস্থা থাকছে না। আমন্ত্রিত অতিথিদের শহীদ মিনার চত্বরেই আমরা অভ্যর্থনার আয়োজন করব। আর মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর জানান, একুশ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে যান ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ পাস ছাড়া ঢুকতে পারবে না। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চারটি স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রক্টরিয়াল টিম টহল দেবে। তাছাড়া ঢাবির বিএনসিসি এবং স্কাউটের স্বেচ্ছাসেবকরাও থাকবেন। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। দিবসটি সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের জন্য এবং বিড়ম্বনা এড়াতে ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। অপরদিকে শহীদ মিনার থেকে বের হতে দোয়েল চত্বরের রাস্তা অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সামনের রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশিত রাস্তাগুলো ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করে শহীদ মিনারে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া যাবে না।

এসএইচআর/এমএইচএস

Link copied