‘সবার জন্য পেনশন’ শিগগিরই সংসদে উঠবে

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ জুন ২০২২, ১০:০৯ পিএম


‘সবার জন্য পেনশন’ শিগগিরই সংসদে উঠবে

সবার জন্য পেনশন বিমা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এ প্রক্রিয়ায় অনেক দূর এগিয়েছি। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে সার্বজনীন পেনশন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দিয়েছি। খুব শিগগিরই সংসদে আইনটি উঠবে। আমরা তা কার্যকর করতে পারবো। তাতে যারা পেনশন পাবেন, তাদের জীবন সুরক্ষিত হবে। বিস্তারিত আইনে রয়েছে।

বুধবার (২৯ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য বৃদ্ধির চাপ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও বিদ্যুত খাতে সরকারের যে ঘাটতি হবে তা আমরা মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে শতভাগ চাপিয়ে দেবো না, যার ফলে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। সেকারণে কার্যকর ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল মাত্রায় রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবো।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর আরেকটি ঢেউ এসেছে। চতুর্থ ঢেউ। করোনাভাইরাস আমরা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। পাওয়ার যোগ্য সবাইকে টিকা দিয়েছি। জীবন জীবিকার সুরক্ষায় যতটুকু দেওয়ার তার সবটুকুই আমরা সক্ষম হয়েছি। করোনা নতুনভাবে আমার দেখা দিয়েছে। সবাইকে বলবো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে। করোনা মোকাবিলায় আমরা যে সাফল্য এনেছি সেটা ধরে রাখতে হবে।

করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিমারী আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। তবে, আমরা এই ক্ষতি সামলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সরকার কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যে কোনো ধরনের বাধা আসুক না কেন তা মোকাবিলা করতে পারবো। সেই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। করোনা অতিমারির সময়কালে সরকারে যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে তা চলমান থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি করতে পেরেছি। অতিমারি মোকাবিলা করেও ৫০ বিলিয়নের ক্লাবে প্রবেশ করেছে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পদক্ষেপ, প্রাজ্ঞ নীতি কৌশল গ্রহণের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পদক্ষেপে করোনাকালে গ্রামীণ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়। যার কারণে গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতা কমে যায়। বরং শহর থেকে মানুষ গ্রামে চলে যায়। কারণ গ্রামীণ অর্থনৈতিক পরিবেশ অনেক ভালো ছিল।

করোনা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, করোনার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করোনার তৃতীয় বছরে আমাদের অগ্রাধিকার হবে আয়বর্ধন কর্মসৃজনের ধারা অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে টেকসই করা এবং অর্থনীতির ভিত্তিকে পূর্ণাঙ্গরূপ দেওয়া। এজন্য প্রণোদনা কার্যক্রম আগামী অর্থ বছরে অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। ভবিষ্যতে যদি কোনো সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের পাশে সব সময় আছে। একইভাবে পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, করোনাটা যখন কমে গেছে আমাদের আমদানি বেড়েছে। এই আমদানি নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। আমরা বেশিরভাগেই ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি করেছি। এগুলো স্থাপন ও চালু হলে দেশ লাভবান হবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা করতে গিয়ে হয়তো আমাদের ডলারে কিছুটা টান পড়েছে, কিন্তু সেটা এখনো আশঙ্কাজনক কোনো বিষয় নয়। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিয়েছি।

মুল্যস্ফীতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়েরর জন্য টাকার মূল্যমান পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, আমরা বিশালবহুল পণ্য আমদানি যাতে কম হয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেসব দ্রব্য খুব একটা প্রয়োজন নেই তা যেন আমদানি কম করেন সবাইকে সেই আহ্বান জানাবো।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন বন্যা চলছে। দক্ষিণাঞ্চলে ভাদ্র মাসের দিকে আসে। এ বন্যাও আমরা মোকাবিলা করতে পারবো। পদ্মা সেতু এই বন্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত যে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য জনগণের সাহসই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এটা আমাদের বাঙালি জাতির আত্মপ্রত্যয় এবং সক্ষমতার বীরত্বগাঁথা। বাংলাদেশ যে পারে। জাতির পিতা বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, পারে নাই।’

নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের প্ররোচণায় বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল বলে ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু করবো। তখন অনেকই বিশ্বাস করে নাই। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বিাস ছিল। আমার বিশ্বাস, আমার জনগণ।

মানুষই নিজের শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কল্যাণ করা আমাদের কাজ। সেই কাজটা সফলভাবে করতে পেরেছি। পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করে দিয়েছি। এই সেতুর সঙ্গে রেললাইন, সেটা ঢাকা থেকে গিয়ে একেবারে যশোর পর্যন্ত সংযুক্ত হবে। যদিও এটা খুব কঠিন কাজ, তারপরও সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। আমরা একেবারে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী হয়ে যেন একেবারে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন পৌঁছাতে পারে সেই জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। কিন্তু এখানে এত বেশি নদী-নালা, মাটি এত নরম। করাটা খুব কষ্টকর। তবুও যতদূর পারা যায় আমরা তা করবো। এই প্রত্যয় আমাদের আছে। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীর তার বক্তব্যে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা তুলে ধরে বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে, কথা দিয়েছিলাম। দেশের মানুষের ঘরে ঘরে আলো দিয়েছি।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবসময় অবহেলিত ছিল। পদ্মা সেতু হওয়ায় আর অবহেলিত থাকবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিল্পায়নের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলো দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছিল। যুদ্ধাপরাধী, জাতির পিতার খুনিদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করেছিল বিএনপি—জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিন্তু আজকের প্রজন্ম দেশের ইতিহাস জানে, সত্যকে জানে। তাদের আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। অনেকই অনেক কথা বলে, অনেক কিছু বলেন। সেটা আমি কখনো ধর্তব্যেই নিই না। এটা পরিষ্কার কথা। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, জনগণের প্রতি বিশ্বাস আছে। তারাই আমার শক্তি ও সাহস। আর বাবা-মায়ের দোয়া আছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সাফল্য আনবো।

সরকার দেশব্যাপী উন্নয়ন করে দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ ক্ষতবিক্ষত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই আমাদের চলতে হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতির পিতা দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার কাজ করে।

তিনি বলেন, কৃষি জমির সুরক্ষা ও জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য মৌজা ও প্লট ভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আর্থিক খাতে সংস্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা চালু করার জন্য সম্ভব্যতা যাচাই পরিচালনা করবো। এছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাপক ও দ্রুততর করার জন্য ডিজিটাল ব্যাংক করার জন্য পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হবে।

এইউএ/এসএম

Link copied