ধোলাইখাল পশুর হাট কাঁপাচ্ছে লাল বাহাদুর, রাজা-বাদশা আর মদন

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২২, ০৭:১৫ পিএম


ধোলাইখাল পশুর হাট কাঁপাচ্ছে লাল বাহাদুর, রাজা-বাদশা আর মদন

ঈদের মাত্র দুদিন বাকি। এখনো জমে ওঠেনি ধোলাইখালের কোরবানির পশুর হাট। হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। বিক্রেতারা বলছেন ক্রেতারা কিনতে নয় এখন আসছেন দাম যাচাই করতে, কিনবেন কাল (শুক্রবার) বা পরশু। 

বৃহস্পতিবার ধোলাইখাল পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ হাটে কোরবানির পশু এনে রাখা হয়েছে। এখনো কেনাবেচা তেমনভাবে শুরু হয়নি। বিক্রেতারা অপেক্ষা করছেন ক্রেতার জন্য। এ হাটে দেশীয় মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। তাই এ জাতের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি।

ধোলাইখাল হাটে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে গরু নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। হাটটি পশ্চিমে রায়সাহেব বাজার, পূর্বে দয়াগঞ্জ, দক্ষিণে সূত্রাপুরের লোহারপুল পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতাদের কেউ কেউ বসে গল্প করছেন। আবার কেউ ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শেষ মুহূর্তে গরু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন। 

ফরিদপুরের সদরপুর থানা থেকে ১৪টি গরু নিয়ে ধোলাইখালে এসেছেন ব্যবসায়ী কুদ্দুস মাতব্বর। এর মধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রে রাজা ও বাদশা। গরু দুটির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ ও ১০ লাখ টাকা।  

dhakapost

কুদ্দুস মাতব্বর ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১০ লাখ ও ৭ লাখ হলে বিক্রি করে দেব। বাজারদর কমও না আবার বেশিও না, স্বাভাবিক আছে। বাজারে ক্রেতা খুব বেশি একটা নেই।

ঢাকার দোহার থেকে লাল বাহাদুর নামে একটি গরু নিয়ে এসেছেন ইসহাক আলী। তিনি বলেন, সাড়ে তিন বছর ধরে লাল বাহাদুরকে লালন-পালন করেছি। ১৫ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবো। ক্রেতারা ৮-৯ লাখ টাকা করে দাম বলছেন।

গরু কিনতে আসা হাসান আকবর বলেন, বাজারে গরুর দাম বেশিই মনে হচ্ছে। বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। আমি মাঝারি দেশি গরু কিনব। ফার্মের গরুতে পুষ্টিগুণ নিয়ে সন্দেহ আছে। 

কুষ্টিয়া থেকে মদন নামে দুটি গরু নিয়ে এসেছেন মিরাজুল। একেকটির দাম চাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা করে। একসঙ্গে ১৩ লাখ হলে দুটিই বিক্রি করে দেবেন। তিনি বলেন, পরশুদিন গরুগুলো নিয়ে ঢাকায় এসেছি। এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি। বিক্রি করব কার কাছে, ক্রেতাই তো দেখা যাচ্ছে না। ঈদের দুদিন বাকি আছে। আজ সন্ধ্যার পর, আগামীকাল ও পরশু হয়তো ক্রেতারা আসবে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। 

ধোলাইখাল হাট ব্যবস্থাপনা বুথে হাসিল আদায়ের দায়িত্বে থাকা মো. সাব্বির বলেন, হাটে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, সে জন্য মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসক রয়েছেন।

আইবি/আরএইচ

Link copied