বরিশাল হোটেলের টেবিল-চেয়ারে পোড়া দাগ, পড়ে আছে রুটি-শিঙাড়া

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০২২, ০৫:৪২ পিএম


বরিশাল হোটেলের টেবিল-চেয়ারে পোড়া দাগ, পড়ে আছে রুটি-শিঙাড়া

পুরান ঢাকার চকবাজারের বরিশাল হোটেলে প্রতিদিন খাওয়া-দাওয়া করতেন শতশত মানুষ। সব সময় লেগে থাকত মানুষে ভিড়। আজও হোটেলটিতে মানুষের ভিড় লেগে আছে। কিন্তু আজ তারা এসেছেন শুধু দেখতে, খাবার খেতে নয়। কারণ গতকাল হোটেলটিসহ পুরো ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছে হোটেলটির ছয় কর্মী।

মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চকবাজারের ৩০নং ওয়ার্ডের কামালবাগের হোটেলটি পুড়ে ছাই। এছাড়া হোটেলটির পুরো ভবনসহ পাশের দুটি ভবনের ভেতরের জিনিসপত্রও আগুনে পুড়ে গেছে।

হোটেলটিতে এখনও গামলার মধ্যে পড়ে আছে রুটি, শিঙাড়া। ক্রেতাদের বসার টেবিল-চেয়ারগুলো আগের মতো সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকলেও, শুধু লেগে আছে আগুনে পুড়ে যাওয়া কালো দাগ।

100% 

হোটেলটিতে আজও অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করছেন, দেখছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ আক্ষেপ করছেন, আর বলছেন দুদিন আগেও এই হোটেলে খাওয়া দাওয়া করেছি। আজ কেউ নেই।

পাশের ড্রাম পট্টিতে কাজ করা আব্দুল কুদ্দুস ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল আগুনের ঘটনার সময় আমি কেরানীগঞ্জ ছিলাম। তাই আজ দেখতে এসেছি। হোটেলটিতে প্রায় সময় সকালের নাস্তা করতাম। অল্প সময়ে বেশ জমে উঠেছিল।

কুদ্দুসের সহকর্মী আজিজ পাশা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গেট খুলে দেখলাম ধোঁয়া বের হচ্ছে। তার মিনিট পাঁচেক পর দেখলাম শুধু আগুন আর আগুন। এরপর পুলিশ আর ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের কারণে সামনে যেতে পারিনি। তাই আজকে দেখতে এলাম। হোটেলের ছেলেগুলো খুব ভালো ছিল।      

উল্লেখ্য, চকবাজারের কামালবাগের ওই আগুনে ৬ জন নিহত হয়েছেন। তার সবাই আগুন লাগা ওই ভবনের নিচ তলার বরিশাল হোটেলের স্টাফ। নিহতরা হলেন- ওহাব আলী ওসমান (২৫), বেল্লাল সরদার (৩৫), স্বপন সরকার (১৮), মোতালেব (১৬) ও শরীফ (১৬) ও রুবেল (২৮)।

আরও পড়ুন : চকবাজারের আগুনে নিহতদের ২ লাখ টাকা করে দেবে সরকার

এদিকে আগুনে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর পরই ভবন ও প্লাস্টিক গোডাউনের মালিক লাপাত্তা আছেন। শুধুমাত্র ভবনের নিচে থাকা বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা প্লাস্টিক নামে ওই চারতলা ভবনের মালিকের নাম আলম। আলমের মৃত্যুর পর তার ছেলে মো. রানা এসব দেখাশোনা করতেন। ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং টিন শেড দিয়ে তৈরি করা চতুর্থ তলায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের খেলনার কারখানা এবং গোডাউন ছিল। এই গোডাউন ও কারখানার মালিক মো. নজরুল। দীর্ঘ দিন ধরে তিনটি তলা ভাড়া নিয়ে তিনি কারখানা ও গোডাউনের কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন।

100%

আর ভবনের নিচ তলায় ছিল বরিশাল হোটেল। এ হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিন। তিনি মূলত বরিশালের বাসিন্দা। মাত্র ৬ মাস আগে ভবনের নিচ তলা ভাড়া নিয়ে হোটেলটি দিয়েছিলেন।

আর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চকবাজারে পলিথিন কারখানায় লাগে। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন লাগা ভবনের নিচতলায় থাকা বরিশাল হোটেলের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তারা বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন শুরুতে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারে যায়। সেখানে আরেক দফা বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুন লাগে।

এমআই/আইএসএইচ

Link copied