ব্রজ নিকেতনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই : সালমান এফ রহমান

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২১ পিএম


ব্রজ নিকেতনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই : সালমান এফ রহমান

নবাবগঞ্জের কলাকোপার প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি ‘ব্রজ নিকেতন’ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। 

তিনি বলেছেন, এটাকে আমরা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। আমাদের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নতুন প্রযুক্তি আছে। যার মাধ্যমে এ রিস্টোরেশনের কাজটা তারা করতে পারবে। আর এ কাজের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন হবে তা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে স্পন্সরশিপ নিয়ে করে দেব। আমি তাদের অনুরোধ করবো।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার সদ্য দখলমুক্ত ও সরকারের দখলে নেওয়া ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ‘ব্রজ নিকেতন’ পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টার তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর দীর্ঘদিন বেআইনিভাবে দখলে থাকা পুরাতন এ স্থাপত্যটিকে দখলমুক্ত করা হয়।
 
নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর তীর সংলগ্ন তৎকালীন জমিদার ব্রজন রায় প্রায় দুইশ বছর পূর্বে ‘ব্রজ নিকেতন’ নামে প্রাসাদটি নির্মিত করেন। পেশী শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সহোদর অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আবুল হোসেন, আবুল কালাম খন্দকারসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অবৈধভাবে এ ‘ব্রজ নিকেতন’ স্থাপনাটি দখল করে রেখেছিলেন। বর্তমানে এ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সম্পত্তি সরকারের দখলে রয়েছে।

১.৫৫ একর জায়গার ওপরে নির্মিত ‘ব্রজ নিকেতন’ ঘুরে দেখা গেছে, মূল ভবনের সামনে ডানে ও বামে দুটি বাগান রয়েছে। ভবনের ডান পাশে বাগানের শেষে রয়েছে একটি পুকুর। আর বাম পাশের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করে সেখানে কয়েকটি হরিণ রাখা হয়েছে। দোতলা বিশিষ্ট মূল ভবনটিতে মোট ছয়টি কক্ষ রয়েছে। ভবনের পেছনে রয়েছে দুটি ছোট ঘর। যার একটি রান্নার জায়গা এবং অন্যটি অন্দরমহল নামে পরিচিত। তারও পেছনে গাছগাছালি বেষ্টিত বাগানসহ আরও একটি পুকুর রয়েছে।

‘ব্রজ নিকেতন’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ব্রজ নিকেতনকে প্রথমে রিস্টোরেশন করা হবে। তারপর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যা করণীয় তাই করা হবে।

হরিণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এখানে হরিণ অবৈধভাবে রাখা হয়েছিল। হরিণ পালনের কোনো লাইসেন্স ছিল না তাদের। সরকার দখলে নেওয়ার পর তারা গিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে। তবে শুনেছি সেটি আবারও বাতিল করা হয়েছে। আমরা হরিণগুলো তাদের দিয়ে দিতে চেয়েছি, তবে তারা সেটি নিতে আগ্রহী হয়নি। এখন এটি আমরা বন বিভাগের দায়িত্বে দিয়ে দেব।

সালমান এফ রহমান বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমি জমির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এখানে আমি কাউকে কোনো ছাড় দেব না। এটা কোনো রাজনীতির ব্যাপার না। বিএনপি হোক আর আওয়ামী লীগের যে নেতাই হোক, যদি কেউ জায়গা দখল করে থাকেন, তবে সেটি অবশ্যই তাকে ছাড়তে হবে। আমার এখানের ইউএনও, পুলিশ, এসি ল্যান্ড সবাই এ বিষয়ে জানে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর বলেন, এ বিষয়টি আমাদের অতি সম্প্রতি নজরে এসেছে। বর্তমানে এ সম্পত্তিটি জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আইন অনুযায়ী যে সমস্ত ঐতিহাসিক বিষয় আছে, সে সব বিষয়ে আইন মেনে আমরা প্রথমে ঘোষণা করি। তারপর গেজেট তৈরি করি। আমাদের এক্সপার্ট আছে তারা এ বাড়িটি দেখবে কত বছর আগে তৈরি হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে এ বাড়িটি রিস্টোরেশন করা হবে।

এসময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) চন্দন কুমার দেসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচএন/এফকে

Link copied