নির্বাচনকে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য করতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৮ পিএম


নির্বাচনকে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য করতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। তারা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী তারা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে ষষ্ঠ কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। 
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী চাচ্ছে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। বাংলাদেশের দিকে সারাবিশ্বও সেভাবে তাকিয়ে আছে। আমরা বলেছি সেই নির্বাচনে আপনাদের (ডিসি) ভূমিকা মুখ্য হবে। যাতে করে জাতিকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন>>কৌশলে আত্মগোপনে মেজর জিয়া, তাই ধরা যাচ্ছে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, আমাদের তখন করণীয় কিছু থাকবে না। আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো তখন কিছু রুটিন ওয়ার্ক করবে। মূল দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশন। বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

সারাদেশে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর হতে ডিসিদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক মোকাবিলা করা একটা চ্যালেঞ্জ। মাদকের ভয়াবহতা সবাই উপলব্ধি করছেন। মাদকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা তিনভাবে ভাগ করে কাজ করছি। প্রথমত মাদকের চাহিদা কমানো। এক্ষেত্রে ডিসিদের ভূমিকা অনেক। তারা মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসায় সব জায়গায় যেন তারা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাদকের চাহিদা কমানোর কার্যক্রমে সরব থাকেন। এটা না করতে পারলে আমাদের ২০৩০ ও ২০৪১ সালকে নিয়ে যে স্বপ্ন তা হয়তো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। আমরা জেলখানাগুলো আধুনিকীকরণ করতে যাচ্ছি। আমাদের পাসপোর্ট ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে একটা আধুনিক জগতে চলে গেছি। 

আরও পড়ুন>>আওয়ামী লীগ পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে যদি বিজিবি গুলি করে বা গুলির ঘটনা ঘটলে তদন্ত হয় না। এক্ষেত্রে তদন্ত কীভাবে হবে? ডিসিরা নির্বাহী তদন্ত চেয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটার ব্যাপারে সিনিয়র সচিব উত্তর দিয়েছেন। এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তারপর ব্যবস্থা নেবেন।

মিয়ানমার সীমান্তে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আপনি ও সরকার বার বার দাবি করেছেন সন্ত্রাসবাদকে আপনারা নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু আমরা ভিডিওতে দেখলাম পাহাড়ে বড় বড় অস্ত্র নিয়ে প্যারেড করা হচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই পরিস্থিতি অনেকদিনের। এখানে অনেক দল-উপদল কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী শান্তিচুক্তি করেছিলেন। চুক্তি করার পরও কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র জমা কিংবা আত্মসমর্পণ না করে মাঝে-মধ্যে অতর্কিত চলে আসছে। তবে এর সঙ্গে সারাদেশে জঙ্গি উত্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা জঙ্গি দমন করেছি। তবে শেকড় থেকে উঠিয়ে দিতে পারিনি। জঙ্গির সমতল থেকে পাহাড়ে চলে গিয়ে  সেখানকার লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে আমরা তাদের সেখানকার ঘাঁটিটাও বিনষ্ট করে দিয়েছি।

আরও পড়ুন>>রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চুরি-ডাকাতি-অপহরণ হতে দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা, জঙ্গি কিংবা আভ্যন্তরীণ কোনো সংকট এক বিষয় নয়। আমি সবসময় বলে এসেছি রোহিঙ্গারা যদি দীর্ঘদিন এখানে থাকে তবে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীও সেটা বলেছেন। তারা যেকোনো মুহূর্তে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে প্রলুব্ধ হতে পারে। তাই তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখন মিয়ানমারের ইয়াবা নামক মরণ-নেশা দেশে আনছে। রোহিঙ্গাদের অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। তাদের আমরা এক জায়গায় রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে তারা বাইরে চলে যাচ্ছে, নিজেরা খুনোখুনি করছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমাদের এপিবিএন ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় আছে। আমার মনে হয় সীমান্তের এক কোণে যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে সেটার বিস্তার ঘটবে না।

ডিসিসহ বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে এক সঙ্গে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।

জেইউ/কেএ

Link copied