হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৪

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২১, ১৭:০৯

হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন, রবিউল ইসলাম (২৩), মেরাজুল ইসলাম (২২) মিরাজুল ইসলাম, জামিল (২০) ও মিজান (৪০)। চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, ইব্রাহিম  খলিল (২৫), ইমরান হোসেন (২৪), ইমাম উদ্দিন (২২), বেলাল হোসেন (২২) ও সাইফুল ইসলাম (২৪)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নং ওয়ার্ডে তারা চিকিৎসাধীন। সংঘর্ষে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের নাম জানা যায়নি। 

আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসাছাত্র ও একজন স্থানীয় দর্জির দোকানে কাজ করতেন। এছাড়া আহত আরও চারজন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, হাটহাজারী থানার ভাংচুর করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের অস্ত্র লুট করা হয়েছে, এসিল্যান্ডের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিলে কোনো বাধা দেওয়ার কারণ নেই। মিছিল তো আগেও করেছে তারা, বাধা দেওয়া হয়নি। লুট করা অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। 

এদিকে খবর পেয়ে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে নিহত ও আহতদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে আসেন হেফাজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের দাবি জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেন তিনি। 

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর উপজেলা ভূমি অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি উতপ্ত রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।  এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনে ছাত্র ও মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার ঢাকা পোস্টকে  বলেন,  হাটহাজারী মাদরাসায় সংঘর্ষের পর বেলা সাড়ে ৪টার দিকে পটিয়ায় মাদরাসা ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করে। ফেরার পথে তারা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে থানার প্রাচীরে লাগানো লাইট ও অফিসের কাচ ভেঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে একটি মিছিল বের করে হাটহাজারী বড় মাদরাসার ছাত্র ও মুসল্লিরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

dhakapost

চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন  বলেন, পুলিশের উপর হামলা ও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে মাদরাসার ছাত্ররা। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক  আজিজুল হক ইসলামবাদী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাদরাসার ছাত্ররা ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে হামলার পর একটি মিছিল বের করে। এরপর মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ মাদরাসা ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তারপরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। থানায় কেন ভাংচুর করা হলো এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,  মিছিলে বাধা না দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো না। 

কেএম/এসকেডি

Link copied