পরিবর্তনের অগ্রদূত পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল ২০২১, ২০:১৫

পরিবর্তনের অগ্রদূত পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ

ড. বেনজীর আহমেদ

পুলিশকে জনগণের প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে চেঞ্জ মেকার হিসেবে গত বছরের ১৫ এপ্রিল ৩৭তম পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্ণ করলেন আজ (বৃহস্পতিবার)।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) পুলিশ সদরদফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইজিপির দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তার সময়ে পুলিশের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক তুলে ধরা হয়।

পুলিশ সদরদফতর থেকে বলা হয়, বর্তমান আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে পাঁচ মূলনীতি ঘোষণা করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, মাদক নির্মূল, অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা এবং পুলিশের সার্বিক কল্যাণ এ পাঁচ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য তিনি সব পুলিশ অফিসার ও ফোর্সকে নির্দেশনা দেন। আইজিপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিটি শাখার জন্য সুনির্দিষ্ট এওআর প্রণয়ন ও কর্মবণ্টন করেছেন। তিনি সব পুলিশের জন্য একই সিরিয়ালের (০১৩২) মোবাইল ফোন নম্বর চালু করেন।

পুলিশ সদরদফতর থেকে বলা হয়, পুলিশের সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশকে ৬ হাজার ৯১২ বিটে ভাগ করেন। প্রতি বিটে একজন কর্মকর্তা পদায়নের মাধ্যমে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করেন বর্তমান আইজিপি।তার নির্দেশে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা দূর করতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়। পুলিশের পদোন্নতি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তও নেন ড. বেনজীর আহমেদ।

বর্তমান আইজিপি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন, মডিউল তৈরি করেন। কন্সটেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য বছরে অন্তত একবারের জন্য হলেও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুলিশ সদরদফতর থেকে আরও বলা হয়, আইজিপি জনগণকে উন্নত পুলিশি সেবাদানের জন্য হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং চালু করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য টেকটিক্যাল বেল্ট চালু করেন। এর ফলে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যরা হ্যান্ডস ফ্রি রেখে জনগণকে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছেন। নারীরা যাতে সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হন তাই নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ফেসবুক পেইজ চালু করা হয়েছে। কোনো নারী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে তিনি সহজেই এ পেইজের মাধ্যমে প্রতিকার পাচ্ছেন। প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালু করা হয়েছে।

আইজিপির উদ্যোগে টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের নতুন ইউনিট চালু করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র ভাসানচরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন থানা। আইজিপি গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জনগণকে সেবা দিতে চালু করেন প্যান্ডেমিক পুলিশিং। একটি আন্তর্জাতিক মানের এসওপি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রণয়ন করেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়া পুলিশদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা দিতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও ২৫০ শয্যার সাধারণ হাসপাতাল থেকে ৭৫০ শয্যার কোভিড হাসপাতালে উন্নীত করেন। পর্যায়ক্রমে এর শয্যা সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হয়।

আরও বলা হয়, বর্তমান আইজিপির সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়। সব পুলিশ হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসায় অভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অধীনে নিয়ে আসা হয়। ক্যান্সার ইউনিট, ক্যাথল্যাব স্থাপনসহ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে বিশ্বমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছেন আইজিপি।

আইজিপি ঢাকায় একটি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল স্থাপন ও অন্যান্য বিভাগীয় হাসপাতালকে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পুলিশ মেডিকেল কোর গঠনের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আটটি বিভাগীয় শহরে উন্নতমানের স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা হয়েছে। আইজিপির বিশেষ উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে হ্রাসকৃত ভাড়ায় দূরপাল্লার বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। উন্নত দেশের উপযোগী করে বাংলাদেশ পুলিশকে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন পরিবর্তনের অগ্রদূত কর্মবীর ড. বেনজীর আহমেদ।

এমএসি/ওএফ

Link copied